রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গত শনিবার (৯ মে) রাত ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী কলেজের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে বাইরে বের হয়ে এসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা ‘এই ইডেনে হবে না ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এক পর্যায়ে ছাত্রদলের এক পদপ্রত্যাশীর টানানো ব্যানার ছিঁড়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি দাবি করেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের আন্দোলনের আড়ালে ছাত্রীসংস্থার ‘গুপ্ত কর্মীরা’ সক্রিয় ছিল এবং মব সৃষ্টি করে ছাত্রদলের নেত্রীদের হেনস্তা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি তিতুমীর কলেজসহ বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অতীতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া কিছু ব্যক্তি পরে ‘গুপ্ত সংগঠনের’ সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
নাছির উদ্দীন আরো দাবি করেন, ইডেন কলেজে ছাত্রীসংস্থার ইন্ধনে মব সৃষ্টি করে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের হেনস্তা করা হয়েছে এবং ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে কঠোর প্রতিরোধের হুঁশিয়ারিও দেন।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রদলকে উদ্দেশ করে বলেন, সংগঠনটি অতীতের মতোই পুরনো পন্থায় রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তোলেন।
তিনি আরো দাবি করেন, ছাত্ররাজনীতির কারণে শিক্ষার্থীরা ভীত হয়ে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলকে সংগঠন পুনর্গঠন ও শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান।
ইডেন কলেজ প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
সানা/ডিসি/আপ্র/১০/৫/২০২৬