নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসার যদি কোনো উদাহরণ থেকে থাকে তবে সেটা মায়ের ভালোবাসা। মা মানে নাড়ির টান। একজন মা জীবনের সব কিছুকে ত্যাগ করে সন্তানের সুখের জন্য সব কিছু করতে পারেন। মায়েদের ভালোবাসা ও সম্মান করার জন্য বিশেষ কোনো দিনের প্রয়োজন হয় না। তবু প্রতিবছর পালিত হয় মাতৃদিবস।
প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার এই দিবসটি পালিত হয়। এই বিশেষ দিনটির ইতিহাস, তাৎপর্য, গুরুত্ব সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। এই দিন বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাকে ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে তোলার একটি বিশেষ দিন। তাই কঠোর পরিশ্রমের মাঝেও তাদের মুখে হাসি ফোটানোই প্রত্যেকটি সন্তানের কর্তব্য। মাতৃ দিবস সবার কাছে একটি বিশেষ দিন। এই দিনটি মায়ের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার একটি দিন। যিনি তার সন্তানকে ছোট থেকে বড় করেন। তবে পৃথিবীর সব জায়গাতেই বিভিন্নভাবে পালিত হয় মা দিবস। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুসারে একে অপরের থেকে আলাদা। তবে আমাদের দেশে এই বিশেষ দিনে সবাই তার মায়েদের জন্য উপহার আনেন। সুন্দর শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। আবার বিদেশেও কিন্তু অনেকে তার মায়েদের কার্ড ও ফুল দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
যেভাবে উৎপত্তি মা দিবসের: আধুনিক যুগে মা দিবসের উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সেখানে প্রতি বছরের মে মাসের ২য় রবিবার পালিত হয় এটি। এই চিন্তাটা প্রথম আসে ফিলাডেলফিয়ার আনা জারভিসের মাথা থেকে। তিনি ১৯০৭ সালে ১২ মে তার মাকে নিয়ে এক ছোট্ট স্মরণসভার আয়োজন করেন। আনা জারভিসের মা নারীদের একসঙ্গে করে বন্ধুত্ব ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতেন। মায়েদের সন্তান মানুষ করাটা যে অনেক পরিশ্রমের কাজ সেটা সবাইকে জানাতে চেয়েছিলেন তিনি। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্র্যাফটনে আনা জারভিসের মা, আনা রিভস জারভিস মায়েদের একটা ‘ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করেন যার লক্ষ্য ছিল শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে আনা। কারণ মিজ জারভিস নিজেও তার নয়টি সন্তান হারিয়েছিলেন। তিনি মারা যান ১৯০৫ সালের ৯ মে। আর তার স্মরণসভার জন্য আনা জারভিস ১২ মে বেছে নেন কারণ ওটাই ছিল তার মা মারা যাওয়ার কাছাকাছি একটা রোববার। তার মা যে চার্চে যেতেন সেখানে তার মার উদ্দেশ্যে একটি ছোট্ট অনুষ্ঠান করেন। এরপরের পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সবকয়টি রাজ্যে মা দিবস পালনের চল শুরু হয়। আর ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এ দিনটাকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকে প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বেশিরভাগ জায়গায় মা দিবস পালন হয়ে আসছে।
একেক দেশে একেকভাবে ও একেক দিনে উদযাপিত হয়: জাপানে মা দিবসের উপহার হলো ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। নেপালে মা দিবস উদযাপনের একটি বিশেষ উৎসব পালন করা হয়, যাকে বলা হয় ‘মাতা তীর্থ আউন্সি’। এই বিশেষ দিনে প্রত্যেকটি সন্তান যেন নিজেদের মায়ের সঙ্গে প্রচুর সময় কাটান। জাপানে মা দিবসের দিন মায়েদের নানা উপহার দেওয়া হয়। বিশেষ উৎসবও পালন করে থাকেন সেখানকার বাসিন্দারা।
ইথিওপিয়াতে বর্ষার শেষে ও শরতের শুরুতে তিন দিনব্যাপী এক উৎসব হয় - অ্যানট্রোস্ট, এটি ঘিরেই এখানে পালিত হয় মা দিবস। আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পরে পরিবারের সব সদস্যরা একসঙ্গে মিলিত হয়, একসঙ্গে সবজি, চিজ আর মাংস মিলে একটা খাবার প্রস্তুত হয়, এরপর সবাই মিলে একসাথে নাচ-গান করে। যদিও মায়েদের খুশি করবার জন্য কোনো দিনের প্রয়োজন হয় না। প্রত্যেক সন্তানই যেন তার মাকে নিয়ে ভালো থাকেন, এমনই কামনা করা উচিত। তাই তাদের খুশি করার জন্য তাদের সঙ্গে ঘুরতে যান। নিজের হাতে রান্না করেও মাকে খাওয়াতে পারেন।
ডিসি/আপ্র/০৯/০৫/২০২৬