পুলিশে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ছিল, তা ‘অনেকাংশে’ গুছিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে বাহিনীর মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম যে পুলিশ আশা করে, সেই পুলিশ গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘পুলিশের যে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল, সেটা অনেকাংশে আমরা গুছিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।’
ঢাকার পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে বা ৩০০ ফুট সড়ক এলাকায় পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটিতে খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশপ্রধান বলেন, ২০১৯-২০ সালে করোনার কারণে এবং পরে রাজনৈতিক অস্থীতিশীলতার কারণে সঠিকভাবে পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দেশাবাসীর সহযোগিতায় একটি ‘গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য এবং সকলের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে’ গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
নতুন সরকারের আমলে আসন্ন এবারের প্রথম পুলিশ সপ্তাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই পুলিশ সপ্তাহ, পুলিশকে সুশৃঙ্খল এবং জনবান্ধব করার জন্য প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সরকারের অন্যান্য যারা এই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে জড়িত, তারা আমাদেরকে নির্দেশনা দেবেন।’
বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও আইনশৃঙ্খলা ঠিক করার বিষয়টি ছিল তুলে ধরে আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘এখন আমাদের সরকার খুবই আমাদের প্রতি আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। দেশের জনগণের নিরাপদ বসবাসের জন্য পুলিশের যে দাবি-দাওয়া ছিল অচিরেই তারা আমাদেরকে দিচ্ছেন। আগে যেভাবে বলা হতো যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ফাইল গেলে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত আসে না। এখন কিন্তু সে দিন নাই, দিন বদলেছে। নতুন সরকার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। আশানুরূপ আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের জন্য সরকার সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে।’
নতুন ফাঁড়ির বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীর ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণ এবং পূর্বাচল এলাকা ঘিরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধির ফলে খিলক্ষেত থানা এলাকার গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ৩০০ ফুট পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন অঞ্চলগুলো বর্তমানে একটি দ্রুত বর্ধনশীল নগর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।’
খিলখেত থানার বর্তমান অবস্থান, সম্প্রসারিত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পুলিশের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন এই ফাঁড়িটি ‘জরুরি’ ছিল, বলছেন তিনি। আলী হোসেন ফকির বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ‘যোগাযোগ হাব’ হওয়ায় এলাকাটি মাদক পরিবহন ও লেনদেনের একটি ‘সম্ভাব্য রুট’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এলাকাগুলোতে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বাড়ায় অস্ত্র ও মাদকের ব্যবহারসহ সার্বিকভাবে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ওই এলাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়, যার ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সার্বক্ষণিক পুলিশের শক্তিশালী উপস্থিতি অপরিহার্য। এর বাইরে গণপরিবহনের সীমাবদ্ধতা ও দূরত্বের কারণে যাতায়াত খরচ, সময়ের স্বল্পতার কারণে ওই এলাকার বাসিন্দারা থানায় গিয়ে পুলিশের সেবা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে। ফাঁড়ির মাধ্যমে ওই এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে জনগণের সাথে পুলিশের যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে বলেও মনে করেন পুলিশ প্রধান।
সানা/আপ্র/৮/৫/২০২৬