সড়ক দুর্ঘটনায় এপ্রিল মাসে ৪০৪ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী, ৪৯ জন।
আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বুধবার (৬ মে) সংস্থার মাসওয়ারি দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নয়টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় দুটি বাসের প্রতিযোগিতার মধ্যে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে সারা দেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের সেই আন্দোলন কোনো ফল আনতে পারেনি, পরিস্থিতি পাল্টায়নি। নতুন করে ব্যাটারিচালিত রিকশা সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল মাসে দেশের সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৬৩টি। এতে নিহত হয়েছেন ৪০৪ জন এবং আহত ৭০৯ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৫৩ জন ও শিশু ৪৮ জন।
পেশাগত পরিচয়ের দিক থেকে সে মাসে সড়কে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৯ জন শিক্ষার্থী, পুলিশ সদস্য একজন, বিজিবি সদস্য দুইজন, শিক্ষক ছয়জন, সাংবাদিক তিনজন, চিকিৎসক একজন, প্রকৌশলী দুইজন, আইনজীবী ২ জন, বিভিন্ন ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা ও কর্মচারী ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৪ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ১৯ জন, স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ী ২২ জন, ঔষধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ১৭ জন, মসজিদের ইমাম বা খাদেম তিনজন, পোশাক শ্রমিক পাঁচজন, ধানকাটা শ্রমিক ১২ জন, নির্মাণ শ্রমিক তিনজন ও তিনজন প্রতিবন্ধিতার শিকার ব্যক্তি।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১৩ জন, যা মোট নিহতের ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৬ জন, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
এর বাইরে বাসের যাত্রী ৩০ জন, মালবাহী যানের আরোহী ৫১ জন, কার-মাইক্রোবাস আরোহী ২৪ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৬১ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (ভটভটি-টমটম) ১০ জন এবং রিকশা-বাইসাইকেলের ১৩ আরোহী নিহত হয়েছেন।
এছাড়া এপ্রিলে সাতটি নৌ-দুর্ঘটনায় চারজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। রেললাইনে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।
সানা/আপ্র/৬/৫/২০২৬