ঢাকার কল্যাণপুরের ‘জাহাজবাড়ি’ নামে পরিচিত একটি ভবনে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় ৯ তরুণকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ জুন এ মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে। প্রসিকিউশনের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলায় বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, সিটিটিসি’র তৎকালীন প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় এবং যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি আদালত পলাতক আসামিদের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে ৮ মার্চ তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করা হয়।
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই গুলশান হামলার পরপরই কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ‘তাজ মঞ্জিল’ নামের ভবনে পুলিশ কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট অভিযান চালায়। ভবনটি স্থানীয়দের কাছে ‘জাহাজবাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল।
‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামের ওই অভিযানে ৯ তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখন দাবি করে, নিহতরা নব্য জেএমবির সদস্য। অভিযানে একজন আহত অবস্থায় গ্রেফতার হন এবং আরেকজন পালিয়ে যান।
ঘটনার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয় এবং বিষয়টি সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকে। তবে পরবর্তীতে ওই অভিযানের বিষয়ে ভিন্ন ভাষ্য উঠে আসায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন মামলা দায়ের করা হয়।
সানা/ডিসি/আপ্র/৬/৫/২০২৬