পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। প্রস্তাবটি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে জমা পড়লেও বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব এখনো না আসায় পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, প্রস্তাবটি কারিগরি কমিটি যাচাই-বাছাই করবে এবং পরে গণশুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ঈদের ছুটির কারণে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা নেই।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। তখন খুচরায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারিতে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, ফলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা হয়। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী দাম বাড়লে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
পিডিবির প্রস্তাবে গড় পাইকারি ট্যারিফ ইউনিটপ্রতি ৫০ পয়সা, ১ টাকা এবং ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ানোর তিনটি বিকল্প রাখা হয়েছে। এ অনুযায়ী, ভর্তুকি কমানোর সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে- ৫০ পয়সা বাড়ালে ভর্তুকি কমবে প্রায় ৫ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা, ১ টাকা বাড়ালে ১০ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা এবং ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ালে ১২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকার মতো কমতে পারে।
বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকির চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় মূল্য সমন্বয় না করলে সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ আরো বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের মত। একই সঙ্গে বিদ্যুতের বর্তমান সরবরাহ বজায় রাখতেও আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।
খুচরা পর্যায়েও মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। তবে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য কোনো মূল্যবৃদ্ধি না করার কথা বলা হয়েছে। আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারভেদে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। বাণিজ্যিক, শিল্প ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্যও নতুন হার নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বিদ্যুৎ খাতে দক্ষতা বাড়ানো, ভর্তুকি কমানো এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিয়ে মূল্য সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশেও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে।
সব প্রক্রিয়া শেষে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বিদ্যুতের নতুন মূল্য কাঠামো।
সানা/ডিসি/আপ্র/৫/৫/২০২৬