গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মেনু

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান

অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে দেখুন

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:০১ পিএম, ০৫ মে ২০২৬ | আপডেট: ২১:৫২ এএম ২০২৬
অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে দেখুন
ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান -ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমালোচনার মুখে তা অন্যান্য দেশের চুক্তির সঙ্গে তুলনা করে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধির নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ পরামর্শ দেন।

চুক্তিটিতে বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি- এমন অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাত্র ছয়টি শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেকোনো চুক্তি নিয়ে মুক্ত আলোচনা হওয়া উচিত। তবে তিনি মনে করেন, এই চুক্তিকে এককভাবে না দেখে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তির সঙ্গে তুলনা করলে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইন্দোনেশিয়া এ ধরনের ২৩১টি শর্তে সম্মত হয়েছে।

প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ৩৭ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হলেও আলোচনার মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে নামানো হয়, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। এর সঙ্গে পূর্বের ১৫ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হয়ে মোট শুল্কহার দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ।

পরবর্তীতে প্রায় নয় মাসের আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছায় বাংলাদেশ, যার ফলে শুল্কহার কমে ১ শতাংশে নেমে আসে। এই চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা, গম আমদানি বৃদ্ধি এবং তুলা ও সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষের তিন দিন আগে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি এ চুক্তি দেখে ‘হতভম্ব’ ও ‘স্তম্ভিত’ হওয়ার কথা জানিয়েছে।

এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগেই বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বর্তমান সরকারি দল বিএনপি এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াত এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিল।

চুক্তি নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব দেশের ওপরই পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছে এবং আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ভিন্ন ভিন্ন হার নির্ধারণ করেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বোঝার জন্য অন্যান্য দেশের চুক্তির শর্ত, ক্রয় প্রতিশ্রুতি এবং নীতিগত সমঝোতাগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করার ওপর জোর দেন তিনি।

এদিকে, চুক্তিটিকে ‘অযৌক্তিক ও কাঠামোগতভাবে অসম’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জাতীয় সংসদে উঠেছে। একই সঙ্গে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদনও দায়ের করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, চুক্তিটি দেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি এবং সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর। পাশাপাশি, চুক্তি প্রণয়ন ও স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বৃহত্তর জনস্বার্থে বিচারিক হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে ওই আবেদনে।

রাষ্ট্রের সম্পাদিত চুক্তি ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না: বাণিজ্যমন্ত্রী: রাষ্ট্রের সম্পাদিত চুক্তি ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে।

মঙ্গলবার (৫ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্যএশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ’র সঙ্গে বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তির নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলেও জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তিকে পারস্পরিক স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয়পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। কাজেই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী নয়, তবে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে। এটি একটি বাস্তবতা এবং আমরা সেটিকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে চাই।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া (ইনভেস্টিগেশন) শুরু করা হয়েছে, যার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত ব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরো ইতিবাচক হতো।
সানা/ডিসি/আপ্র/৫/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

রাষ্ট্রপতির হার্টে ব্লক, রিং পরানোর পর অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক
১৩ মে ২০২৬

রাষ্ট্রপতির হার্টে ব্লক, রিং পরানোর পর অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার জন্য যাওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হার্টে ব্লক শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে এনজি...

রাজনীতি হওয়া উচিত সংসদে, রাজপথে হইচই করে কিছু গড়া যায় না
১৩ মে ২০২৬

রাজনীতি হওয়া উচিত সংসদে, রাজপথে হইচই করে কিছু গড়া যায় না

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ে টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী
১৩ মে ২০২৬

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ে টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ জেতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জান...

বাণিজ্য চুক্তির আলোচনার সহায়তায় বিশেষজ্ঞ প্যানেল হবে
১২ মে ২০২৬

বাণিজ্য চুক্তির আলোচনার সহায়তায় বিশেষজ্ঞ প্যানেল হবে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নানামুখী আলোচনার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্ত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই