কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এতে নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সোমবার (৪ মে) সকাল ৯টায় অন্তত আটটি পয়েন্টে সাতটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নেত্রকোণার বাউলাই, সোমেশ্বরী ও মগরা নদী; সুনামগঞ্জের নালজুর নদী; হবিগঞ্জের কালনি-কুশিয়ারা ও সুতাং নদী এবং অন্যান্য সংযুক্ত নদীপ্রবাহ।
কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর রহমান জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির কারণে নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জে ইতিমধ্যেই বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আগামী তিন দিন ধরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
বুলেটিন অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি বাড়ছে, তবে ভুগাই-কংস নদীর পানি কিছুটা কমছে। বিশেষ করে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী দিনগুলোতে আরো বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন উজান অঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ হাওর এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে নদীগুলোর পানি আরো বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, নেত্রকোণার ভুগাই-কংস, সোমেশ্বরী এবং ধনু-বাউলাই অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে হবিগঞ্জের মনু, খোয়াই, জুড়ি ও সুতাং নদীর পানি বাড়া-কমার মধ্যে থাকলেও সামগ্রিকভাবে বন্যা পরিস্থিতি স্থায়ী হতে পারে।
পানি বৃদ্ধি ও নদী উপচে পড়ার কারণে হাওরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কৃষিজমি ও জনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সানা/ডিসি/আপ্র/৪/৫/২০২৬