জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান-এর বক্তব্যকে ঘিরে অধিবেশনজুড়ে তীব্র হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দিতে গেলে বারবার বাধার মুখে পড়েন তিনি, ফলে সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ বক্তব্য দেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, যিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিকবার হস্তক্ষেপ করেন এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সদস্যদের সতর্ক করেন।
নিজের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফজলুর রহমান। এ সময় স্পিকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তিনি দাবি করেন, এমন মন্তব্য করা হয়েছে। এরপর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে কড়া বক্তব্য দেন, যা সংসদে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কেউ ওই দলে যুক্ত হলে তা ‘ডাবল অপরাধ’। এই মন্তব্যের পরপরই বিরোধী সদস্যরা প্রতিবাদ জানালে শুরু হয় ব্যাপক শোরগোল। স্পিকার তখন সদস্যদের শান্ত থাকতে বলেন এবং বক্তব্য শোনার আহ্বান জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার সংসদীয় বিধি মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রত্যেক সদস্যেরই কথা বলার অধিকার আছে, তবে তা নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে। সংসদের মর্যাদা বজায় রাখার বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন।
পরে ফজলুর রহমান ১৯৭১ সালের শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যা, আল-বদর বাহিনী এবং যুদ্ধাপরাধ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক কিছু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তদন্তের দাবি জানান।
অধিবেশনের শেষদিকে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে বক্তব্য শেষ করেন। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এসি/আপ্র/২৮/০৪/২০২৬