সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া কারও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। একইসঙ্গে আইনের অপব্যবহার হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার মামলা করার সুযোগ পাবেন বলেও তিনি ব্যাখ্যা দেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় তার পক্ষে জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, গত ১০ এপ্রিল পাস হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ২৫(১) অনুযায়ী ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি, প্রতিশোধমূলক অশ্লীলতা বা যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে কোনো তথ্য, ভিডিও বা চিত্র প্রকাশ, প্রচার বা হুমকি দেওয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব ঘটনায় ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যায়।
আইন অনুযায়ী এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হলে শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। চাঁদা দাবির ঘটনা সাইবার প্রতারণার আওতায় পড়ে, যার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারিত হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবেন। এছাড়া জরুরি ক্ষেত্রে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, তথ্য-উপাত্ত জব্দ ও অপরাধী গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও আইনে রাখা হয়েছে।
আইনের অপব্যবহার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক, ব্লগার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আইনগত প্রতিকার চাইতে পারবেন। ধারা ২৮ অনুযায়ী মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে মূল অপরাধের সমান শাস্তি প্রযোজ্য হবে। ট্রাইব্যুনাল স্বপ্রণোদিত হয়েও এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণ ও বিচার করতে পারবে।
আইন বাস্তবায়নে ২৩ সদস্যের জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যার চেয়ারম্যান হবেন প্রধানমন্ত্রী। এ কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দিকনির্দেশনা দেবে।
মন্ত্রী জানান, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও প্রচারসংক্রান্ত অভিযোগ পর্যবেক্ষণ করবে এবং এতে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ নিয়োগ বাধ্যতামূলক। ক্ষতিকর কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের পর তিন দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের অনুমোদন নেওয়ার বিধান রয়েছে এবং ব্লক করা তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ জোরদারে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্তে আধুনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে সংঘটিত অপরাধ শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যার মাধ্যমে ভিডিওর উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবহৃত ডিভাইস দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
বিদেশ থেকে পরিচালিত অপরাধের ক্ষেত্রেও আইন প্রযোজ্য হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।
সানা/আপ্র/২২/৪/২০২৬