জাতীয় সংসদে বিএনপির শাসনামলে ব্যাংক খাত, শেয়ারবাজার এবং ক্ষুদ্র অর্থনীতিতে লুটপাট বা অনিয়ম নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে বড় ধরনের কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।
তিনি আরো বলেন, যারা ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে বিদেশে পালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশে এখন অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা ৪৬টি ব্যাংকের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। আন্তঃব্যাংক লেনদেন ফি পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।
অনলাইন প্রতারণা বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবহারকারীর নাম, পাসওয়ার্ড ও ওটিপি শেয়ার করার কারণে অনেক সময় গ্রাহকের অর্থ প্রতারকদের হাতে চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে গ্রাহকদের আরো সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, অতীতে ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে ব্যাপক অনিয়মের কারণে অর্থ বিদেশে চলে গিয়ে মূলধন সংকট তৈরি হয়েছে। সেই সংকট কাটাতে পুনঃমূলধনীকরণ করে বিনিয়োগে অর্থ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে একই অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৭৮ দশমিক ০৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এই ঋণ দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ নিয়মিতভাবে ঋণ পরিশোধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, বর্তমান সরকারের মেয়াদে এখন পর্যন্ত মোট ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। ঋণ পরিশোধ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিয়মিতভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/২১/৪/২০২৬