জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছয়জনকে হত্যার মামলায় ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এদের মধ্যে ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং চারজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। কারাগারে থাকা চার আসামিকে আগামী ১৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতার চার আসামি হলেন-চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম ও মো. ফিরোজ।
অন্যদিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ১৮ জনের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীনসহ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।
মামলায় তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মোহাম্মদ ফারুককে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম এবং হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার বিষয়টি রয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে গুলি করে হত্যা, হত্যার নির্দেশ, উসকানি এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এসব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
গত রোববার ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো চট্টগ্রামে সংঘটিত হয় এবং সেগুলো দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নিয়েছে। প্রসিকিউশন আশা করছে, সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে তারা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হবে।
এই মামলার অগ্রগতি এখন নির্ভর করছে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের ওপর।
সানা/ডিসি/আপ্র/৭/৪/২০২৬