ঈদের ছুটি শেষেও রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় স্বাভাবিক সময়ের সেই ভিড় নেই। উল্টো যাত্রী সংকট আর জ্বালানি তেলের ঘাটতিতে অনেকটাই থমকে গেছে ওয়াটার ট্যাক্সি চলাচল। যাত্রীশূন্য টার্মিনালগুলো এখন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে সেলফি তোলার স্পটে।
বুধবার (২৫ মার্চ) মধ্যদুপুর। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাতিরঝিলের বাড্ডা গুদারাঘাট (গুলশান) টার্মিনালে ওয়াটার ট্যাক্সির অপেক্ষায় মাত্র সাত-আটজন যাত্রী। টিকিট কাউন্টার ফাঁকা। কাচে লাগানো নোটিশে লেখা-‘এফডিসি–কারওয়ান বাজার: নির্দিষ্ট সময় নেই। ১০ জন যাত্রী হলে বা বোট/ট্যাক্সি এলে ছাড়া হবে, না হলে রামপুরা থেকে যেতে হবে।’
নোটিশটি পড়েই অপেক্ষমাণ কয়েকজন তরুণ-তরুণী টার্মিনালের সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে সেলফি তুলতে শুরু করেন। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও যোগ দেন। আশপাশের এলাকা-গুদারাঘাট থেকে পুলিশ প্লাজা ওভারব্রিজ পর্যন্ত-প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে।
কিছুক্ষণ পর টিকিট বিক্রেতা ফিরে এলে আরো দু-একজন যাত্রী টিকিট কাটেন। তবে ট্যাক্সি না থাকায় কখন ট্যাক্সি আসবে জানতে চাইলে টার্মিনালের এক কর্মী বলেন, ‘রামপুরায় একটি ট্যাক্সি আছে, আসতে আরো ১০ মিনিট লাগবে।’
এদিন সরেজমিনে গুলশান ছাড়াও রামপুরা, পুলিশ প্লাজা ও এফডিসি-কারওয়ান বাজার টার্মিনাল ঘুরে একই চিত্র দেখা যায়। গুলশান টার্মিনালের কর্মচারী ইলিয়াস আলী একটি সংবাদসংস্থাকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫টি বোট চলাচল করে। এখন যাত্রী ও তেল সংকটের কারণে মাত্র চারটি ট্যাক্সি চালাতে হচ্ছে।’
তিনি জানান, ১৫টি ট্যাক্সি চালাতে দৈনিক প্রায় ৪৫০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক সময় ২০০ লিটার তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। আগে একটি পাম্প থেকেই প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া গেলেও এখন একাধিক পাম্প ঘুরেও পর্যাপ্ত জ্বালানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইলিয়াস আলী জানান, যাত্রী কমে যাওয়ার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে-প্রথমত, যাত্রীরা এসে অনেক সময় ট্যাক্সি পান না; দ্বিতীয়ত, ১০ জনের কম যাত্রী হলে ট্যাক্সি ছাড়া হয় না।
এফডিসি-কারওয়ান বাজার টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ৮-১০টি ট্যাক্সি ঘাটে বেঁধে রাখা। টিকিট কাউন্টারও বন্ধ। সেখানে ঘুরতে আসা কয়েকজন তরুণকে মোবাইল ফোনে সেলফি তুলতে দেখা যায়। ইস্কাটনের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন স্ত্রী ও ছয় বছরের শিশুকে নিয়ে ট্যাক্সি চড়ে গুলশান যাওয়ার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। কিন্তু ১০ জন যাত্রী না হওয়ায় ট্যাক্সি ছাড়েনি। তিনি বলেন, ‘প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ছয়জনের বেশি যাত্রী হলো না। বাচ্চাও বিরক্ত হয়ে গেছে, তাই চলে যাচ্ছি।’
ঈদের ছুটির পর সাধারণত হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ে। কিন্তু এবার জ্বালানি সংকট ও ট্যাক্সির অনিয়মিত চলাচলের কারণে সেই চিত্র উল্টো। যাত্রী কমে যাওয়ায় সীমিত সংখ্যক ট্যাক্সি চালাতে বাধ্য হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে, তেল সংকটের প্রভাবে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি সেবা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই টার্মিনালগুলোও হারাচ্ছে তাদের স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য। যেখানে যাত্রীদের ভিড় থাকার কথা, সেখানে এখন ক্যামেরাবন্দি হচ্ছেন অনেকে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৫/৩/২০২৬