গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মেনু

অগ্নিঝরা মার্চ

এই দিনেই আসে স্বাধীনতা সংগ্রামের রূপরেখা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:১৭ পিএম, ০৩ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৪০ এএম ২০২৬
এই দিনেই আসে স্বাধীনতা সংগ্রামের রূপরেখা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

পশ্চিমের শাসকরা জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করার পর পূর্ব পাকিস্তান তখন অগ্নিগর্ভ। ঠিক সেই সময় ৩ মার্চ ঘোষিত হয় স্বাধীনতা-সংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা। 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বন্দরে পৌঁছানোর পথরেখা কার্যত সেদিনই স্পষ্ট রূপ পায়। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ঢাকায় দ্বিতীয় দিনের মত এবং সমগ্র বাংলাদেশে প্রথম দিনের জন্য সর্বাত্মক হরতাল চলছিল সেদিন। শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ প্রায়। তার মধ্যেই পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের ডাকা ছাত্র জনসভায় উপস্থিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে তিনি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। সেদিনই সভা থেকে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের চার নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আ স ম আবদুর রব ও আবদুল কুদ্দুস মাখন স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার শপথ গ্রহণ নেন।


ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সেই সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। ইশতেহারে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটিকে নির্বাচিত করা হয় জাতীয় সংগীত হিসেবে। ঠিক হয়, বাংলাদেশের পতাকা হবে সবুজ জমিনের মাঝে লাল সূর্য, মাঝে সোনালী মানচিত্র। পল্টনের সেই জনসভায় বঙ্গবন্ধু কর-খাজনা না দেওয়ার ঘোষণা দেন। সামরিক সরকারকে গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাদের ব্যারাকে ফিরে যেতে বলেন।

বঙ্গবন্ধু সেদিন নির্দেশ দেন, আমি যদি নাও থাকি, আন্দোলন যেন না থামে। হরতাল চলাকালে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত মিছিলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলি ও বিভিন্ন ঘটনায় সারাদেশে শতাধিক মানুষের প্রাণ যায় সেদিন। ঢাকা ছাড়াও রংপুর এবং সিলেটে কারফিউ জারি করা হয়। পরদিনের ইত্তেফাকের খবর অনুযায়ী, হরতালে চট্টগ্রামেই নিহত হন ৭৫ জন। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এক ঘোষণায় ১০ মার্চ ঢাকায় নেতৃবৃন্দের সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। রাওয়ালপিন্ডির প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে ঘোষণা করা হয়, এই সম্মেলন অনুষ্ঠানের পর দুই সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় পরিষদ অধিবেশন হবে। বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সেই আমন্ত্রণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখান করেন। তবে জুলফিকার আলী ভুট্টো তা গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু ভুট্টোর উদ্দেশে বলেন, গণতান্ত্রিক নিয়মে প্রণীত এক শাসনতন্ত্র যদি না চান, তাহলে আপনাদের শাসনতন্ত্র আপনারা রচনা করুন। বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র আমরাই রচনা করব।

বঙ্গবন্ধু সেদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে যান। জীবন রক্ষার জন্য জনগণের প্রতি ব্লাড ব্যাংকে রক্তদানের আহবান জানান। তিনি জনসাধারণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বাংলার স্বাধিকারবিরোধী বিশেষ মহল নিজস্ব এজেন্টদের দিয়ে লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ ও উচ্ছৃঙ্খল ঘটনা ঘটাচ্ছে। স্বাধিকার আন্দোলন বিপথগামী করার এ অশুভ চক্রান্ত রুখতেই হবে। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও ১৯৭১ সালে প্রকাশিত সংবাদপত্র।

সানা/আপ্র/৩/৩/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, আমাদেরও ভুল হতে পারে: আমির
২৪ জুলাই ২০২৬

জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, আমাদেরও ভুল হতে পারে: আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ফেরেশতাদের দল নয়, বরং মানুষের সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছেন দলটির আমির ও জাত...

হরিজন জনগোষ্ঠীর স্থায়ী আবাসনসহ সাত দফা দাবি
২৪ জুলাই ২০২৬

হরিজন জনগোষ্ঠীর স্থায়ী আবাসনসহ সাত দফা দাবি

হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ এব...

মোহাম্মদপুরে এসআইকে ছুরিকাঘাত, পিঠে পড়েছে ৪৩ সেলাই
২৪ জুলাই ২০২৬

মোহাম্মদপুরে এসআইকে ছুরিকাঘাত, পিঠে পড়েছে ৪৩ সেলাই

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক উপপরিদর্শককে (এসআই) ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে গেছে দু...

ভাটারায় গ্যাস বিস্ফোরণে মামা-ভাগনির মৃত্যু
২৪ জুলাই ২০২৬

ভাটারায় গ্যাস বিস্ফোরণে মামা-ভাগনির মৃত্যু

রাজধানীর ভাটারায় গ্যাসলাইন লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে দগ্ধ মামা ও ভাগনির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। জা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই