রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিলের পরিকল্পনা, রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান, নাশকতার পরিকল্পনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ১৪ নেতাকর্মীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান।
রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মোস্তফা সরদার, মো. রাশেদ, ঢাকা ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রাজীব, সেলিম মিঞা, আব্দুস সামাদ রনি, মমিন হাওলাদার, মো. জিহাদ, রসুলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মো. মহিউদ্দিন, যুবলীগ কর্মী মো. রাহাদ, রাতুল, মো. মারুফ, মো. রায়হান, সানি ও নাজমুল হাসান হৃদয়।
এই ১৪ জনের সঙ্গে মো. আপন ও চার কিশোরকে গত শনিবার সন্ধ্যায় পল্টন থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। পরদিন তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়। চার কিশোরকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর এবং অপর ১৫ জনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মিরাজুল ইসলাম।
পরে চার কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে এবং ১৫ জনকে কারাগারে পাঠিয়ে মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত। তবে মঙ্গলবার মো. আপনকে আদালতে হাজির করা হয়নি। বাকি ১৪ জনকে আদালতে হাজির করা হয়।
আসামিদের পক্ষে আইনজীবী শাহরুক মিরাজ, ওবায়দুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদ (রাসেল) রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত ১৪ জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান জানান, গ্রেফতার মো. আপনকে আদালতে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হবে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৪ অক্টোবর রাজধানীর পুরানা পল্টনে বায়তুল মোকাররমের পাশে আজাদ প্রোডাক্টস গলির মুখে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ১০০ থেকে ১২০ জন নেতাকর্মী জড়ো হন। তাঁরা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক স্লোগান দেন এবং নাশকতার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পল্টন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় তাঁদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় মামলা করে পুলিশ।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৭/১০/২০২৬