প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে। নতুন করে তিনজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীকে যুক্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ হতে পারে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে চারজনের নাম আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত কারা শপথ নেবেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে সম্ভাব্য কয়েকজনকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন করে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। নতুন সদস্যদের জন্য সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন পুলও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকার ও বিএনপির সূত্র অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রী হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীর নাম রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কয়েকজনের সঙ্গে এরই মধ্যে যোগাযোগ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তাদের সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। তবে শপথের আয়োজন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীর এক সহকারী জানিয়েছেন, তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন পেয়েছেন এবং সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে থাকতে বলা হয়েছে। আন্দালিভ রহমান পার্থর ঘনিষ্ঠ একজনও জানিয়েছেন, তিনিও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ফোন পেয়েছেন। আবদুল মঈন খানের সহকারী জানিয়েছেন, তিনি ফোন পেয়েছেন কি না তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও শপথের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে শামীম কায়সার লিংকনও অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছেন।
বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যায় নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপরই নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ আয়োজনের কথা রয়েছে। নতুন সদস্যদের শপথবাক্য পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নতুন মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নরসিংদী-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তার দল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। তিনি ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
সাচিং প্রু জেরী বিএনপির বান্দরবান জেলা শাখার আহ্বায়ক। তিনিও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত হন।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসছে। এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করার পর ওই মন্ত্রণালয়েও স্থায়ীভাবে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের পাশাপাশি তাদের মধ্যে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হতে পারে। এতে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৮ জন। এর মধ্যে ২৪ জন মন্ত্রী এবং ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করে। শুরুতে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৫০ জন। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পরে ১২ মার্চ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল পদত্যাগ করেন। একই দিনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আহমেদ আযম খান। আর ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনকে।
সর্বশেষ গত ১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করেন।
সানা/আপ্র/২১/৮/২০২৬