সময় বদলেছে, আর সেই বদলের সঙ্গে বদলে গেছে ডেটিংয়ের সংজ্ঞাও। একসময় প্রথম ডেট মানেই ছিল রেস্তোরাঁয় ক্যান্ডেল লাইট ডিনার, দীর্ঘ সময় মুখোমুখি বসে আলাপ, আর সম্পর্কের শুরুতে এক ধরনের রোমান্টিক আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ধারণা এখন অনেকটাই পুরোনো। তাদের চোখে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার এখন আর ‘রোমান্টিক আইডিয়া’ নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রেই ‘রেড ফ্ল্যাগ’।
কেন বদলাচ্ছে প্রথম ডেটের ধারণা
নতুন প্রজন্ম এখন সম্পর্ক শুরু করতে চায় চাপমুক্ত পরিবেশে। তারা এমন কোনো পরিস্থিতিতে যেতে চায় না যেখানে অস্বস্তি, মানসিক চাপ বা আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।
সেই কারণেই ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের জায়গায় এখন কফি ডেট, স্ট্রিট ফুড হ্যাংআউট, পার্কে হাঁটা, বইয়ের দোকান ঘোরা কিংবা ছোট কোনো অ্যাক্টিভিটি-বেসড আউটিং বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি এক সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৩১ শতাংশ মানুষ প্রথম ডেটে ডিনার একদমই পছন্দ করে না। তাদের মতে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আনুষ্ঠানিক ডিনার টেবিলে বসে থাকার চেয়ে ২০ মিনিটের কফি ডেট অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক। এমনকি অনেকের মতে, প্রথম ডেটেই যদি কেউ জোর করে ডিনার প্ল্যান করে, সেটি অনেক সময় ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবেও দেখা হয়।
কেন ডিনার ডেট এড়িয়ে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম
নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ মনে করে, প্রথম ডেটে ফাইন ডাইনিং বা ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের পরিকল্পনা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করে।
একজন প্রায় অপরিচিত মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে একই টেবিলে বসে থাকা অনেকের কাছেই চাপের মতো মনে হয়। কথার ফ্লো না থাকলে তৈরি হয় সেই পরিচিত অকোয়ার্ড সাইলেন্স, যা পুরো অভিজ্ঞতাকে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে।
এছাড়া ডিনার ডেটের ক্ষেত্রে সময়ের একটি বাধ্যবাধকতা থাকে। খাবার অর্ডার হয়ে গেলে সহজে উঠে আসা যায় না। ফলে যদি দুইজনের মধ্যে বোঝাপড়া না মেলে, তবুও প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা একসঙ্গে কাটাতে হয়। নতুন প্রজন্ম এমন ডেট চায়, যা ভালো না লাগলে সহজেই ২০-৩০ মিনিটে শেষ করা যায়।
অ্যাক্টিভিটি-বেসড ডেটিংয়ের উত্থান
এই পরিবর্তনের সঙ্গে জনপ্রিয় হয়েছে অ্যাক্টিভিটি-বেসড ডেটিং। এখন অনেকেই ডেটে শুধু মুখোমুখি বসে কথা বলার বদলে একসঙ্গে কিছু করতে পছন্দ করছে। যেমন আর্ট গ্যালারি ঘোরা, মিউজিয়াম ভিজিট, বুকস্টোরে সময় কাটানো, পার্কে হাঁটা বা স্ট্রিট ফুড এক্সপ্লোর।
এই ধরনের ডেটে কথোপকথন স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয়। আলাদা কোনো চাপ থাকে না, আবার একে অপরকে বোঝার সুযোগও বেশি পাওয়া যায়। ফলে প্রথম পরিচয় আরও স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হয়ে ওঠে।
আর্থিক বাস্তবতা ও মানসিক স্বস্তি
ডিনার ডেটের আরেকটি বড় বিষয় হলো আর্থিক চাপ। দামি রেস্তোরাঁয় প্রথম ডেট মানেই অনেক সময় বড় বিল এবং তা কে দেবে, কীভাবে ভাগ হবে-এই নিয়ে অস্বস্তি। নতুন প্রজন্ম এই সামাজিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।
কফি বা ছোট খাবারের ডেটে খরচ তুলনামূলক কম এবং সহজেই ভাগ করে নেওয়া যায়। এতে কারো ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়ে না, যা সম্পর্কের শুরুটাকে আরও স্বচ্ছন্দ করে তোলে।
মনোবিদদের একাংশ মনে করেন, এই পরিবর্তন মোটেও অস্বাভাবিক নয়। বরং এটি একটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন। বর্তমান প্রজন্ম সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইমোশনাল কমফোর্ট” বা মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
আগে যেখানে সম্পর্ক অনেকটাই সামাজিক নিয়ম, রীতিনীতি ও ফরমালিটির ওপর নির্ভর করত, এখন সেখানে ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ও বাস্তব অনুভূতিই মুখ্য হয়ে উঠেছে।
সূত্র: ডাব্লিউ এসজে, দ্য টাইমস, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এসি/আপ্র/২৪/০৫/২০২৬