প্রথম বিশ্ব বা উন্নত দেশ বলতে সাধারণত শেনজেনভুক্ত দেশ, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও জাপানকে বোঝানো হয়। ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশের ৩১টি দেশে শতাধিকবার ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে আমার।
অনেকেই জানতে চান, উন্নত দেশের ভিসা পাওয়ার জন্য কীভাবে নিজের প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। তাঁদের জন্যই অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া ১০টি পরামর্শ তুলে ধরছি। ভিসা আবেদনের মোট নম্বর ১০০ ধরে বাংলাদেশি পাসপোর্টের সীমাবদ্ধতার কারণে শুরুতেই হয়তো ৫০ নম্বর কাটা যেতে পারে। বাকি ৫০ নম্বরে পূর্ণ নম্বর পেতে নিচের বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া জরুরি।
১. তথ্যের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করুন
ভিসা আবেদনের প্রতিটি নথির তথ্য একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। কোনো তথ্য যেন অন্য কোনো নথির তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়। আবেদনপত্র, ব্যাংক বিবরণী, চাকরি বা ব্যবসার কাগজপত্রসহ সব নথিতে একই তথ্য থাকা জরুরি।
২. নিয়মিত আয়ের প্রমাণ রাখুন
চাকরি হোক বা ব্যবসা—মাসিক আয় অন্তত ১ হাজার থেকে ২ হাজার ডলার হওয়া ভালো। লেখকের মতে, এই আয় গন্তব্য দেশের মাথাপিছু আয়ের চেয়ে বেশি হওয়া উচিত। প্রতি মাসের শুরুতে ব্যাংক হিসাবে আয় জমার রেকর্ড থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি আয়ের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ব্যয় হওয়াকে স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
৩. নিজের হাতে কভার লেটার লিখুন
কপি-পেস্ট করা কিংবা ভিসা এজেন্সির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজের ভ্রমণের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরে কভার লেটার লিখুন। ভিসা কর্মকর্তাকে সম্বোধন করে সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় ভ্রমণের কারণ, পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করা উচিত।
৪. কভার লেটারের সঙ্গে ব্যাংক বিবরণীর মিল রাখুন
কভার লেটারে যে তথ্য দেবেন, তার প্রতিফলন ব্যাংক বিবরণীতেও থাকতে হবে। ভ্রমণের খরচ বহনের সামর্থ্য, আয়ের উৎস ও ব্যয়ের হিসাব যেন ব্যাংক লেনদেনের সঙ্গে মিলে যায়। লেখকের ভাষায়, ব্যাংক বিবরণী ভিসা আবেদনের প্রাণ।
৫. ধাপে ধাপে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা গড়ুন
হঠাৎ করেই উন্নত দেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা না করে ধাপে ধাপে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অর্জন করুন। লেখকের পরামর্শ, প্রথমে এশিয়ার তিন থেকে চারটি, আফ্রিকার দুই থেকে তিনটি এবং ওশেনিয়ার দুই থেকে তিনটি দেশ ভ্রমণ করে একটি শক্তিশালী ভ্রমণ ইতিহাস গড়ে তোলা যেতে পারে।
৬. স্বাভাবিক লেনদেন ও সঞ্চয় বজায় রাখুন
আয়-ব্যয়ের সঙ্গে ব্যাংক লেনদেনের সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। সঞ্চয়ী হিসাবে দীর্ঘ সময় ধরে ভালো অঙ্কের অর্থ জমা রাখার চেষ্টা করুন। ভিসা আবেদনের আগে হঠাৎ করে বড় অঙ্কের টাকা জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন লেখক।
৭. আয় ও আয়করের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখুন
ঘোষিত আয়ের সঙ্গে আয়কর নথির মিল থাকতে হবে। উদাহরণ হিসেবে লেখক বলেছেন, কেউ মাসিক দুই লাখ টাকা আয় দেখালে গত তিন বছরের আয়কর রিটার্নেও সেই আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য থাকা প্রয়োজন।
৮. সম্পদের সঠিক তথ্য উপস্থাপন করুন
স্থাবর সম্পদের তথ্য দিলে সঠিক অনুবাদ ও নোটারি সম্পন্ন করার পাশাপাশি ই-নামজারি বা ই-পর্চার সরকারি ওয়েবসাইটের লিংক এবং সংশ্লিষ্ট পরিচিতি নম্বর কভার লেটারে উল্লেখ করতে পারেন। এতে সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ সহজ হয় বলে মত দিয়েছেন লেখক।
৯. অনলাইনে নিজের পরিচিতি তৈরি করুন
গুগল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থায় নিজের ও প্রতিষ্ঠানের নাম অনুসন্ধান করলে যেন ছবি ও তথ্যসহ সহজেই পরিচয় পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করুন। লেখকের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভিসা মূল্যায়নের এই সময়ে অনলাইনে পরিচিতি আবেদনকারীর অবস্থান শক্ত করতে পারে।
১০. দেশের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্কের প্রমাণ দিন
পরিবার, বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসা বা চাকরি, সম্পদ, পরিচিত ক্লাবের সদস্যপদ কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ উপস্থাপন করুন। এসব তথ্যের মাধ্যমে ভিসা কর্মকর্তাকে বোঝানো প্রয়োজন যে, ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে আসার যথেষ্ট কারণ ও দায়বদ্ধতা আপনার রয়েছে।
প্রকৃত ভ্রমণপিপাসুরা এসব পরামর্শ মেনে নিজেদের প্রোফাইল গুছিয়ে পর্যটন ভিসার আবেদন করলে উন্নত দেশের ভিসা পাওয়া সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন লেখক।
এসি/আপ্র/০৮/১১/২০২৬