জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আর ভারত সরকারও শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিচারকদের নিয়ে আয়োজিত ‘জুডিশিয়াল ইন্টিগ্রিটি ওয়ার্কশপে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
এ সময় আগামী ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলার রায়ে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে বলেও জানান তিনি।
বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা বিরোধিতা করেছে এবং গণহত্যায় জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে যেমন কথা বলতে হবে, তেমনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ব্যক্তিদের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার থাকতে হবে।
এ সময় একাত্তরের সংগ্রামে শহিদ জাফর, জয়নায়াল, দীপালী সাহা, কাঞ্চন, রাফুন, বসুনিয়া, জিহাদ ও ডাক্তার মিলনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি; পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও আনাসসহ ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ হত্যার শিকার এবং প্রায় ৩০০ মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলে জানান।
বক্তব্যে এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কথা বলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের সমাজকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ নীরব রয়েছেন। জুলাইয়ে এত মানুষ নিহত হয়েছেন, অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, অথচ তাদের বিষয়ে ওই অংশের কোনো বক্তব্য নেই।
তাই বিচার বিভাগের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিচার বিভাগে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির বিষয়েও কথা বলা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বিচার বিভাগের সততা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে, সেখানে সমস্যাটিকে শুধু আর্থিক দুর্নীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে। তবে বিচার বিভাগের সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি। আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও দেশের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর হয়েছে।
এসি/আপ্র/০৮/১১/২০২৬