গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

মেনু

বিচার বিভাগ নিয়ে অধ্যাদেশ বাতিলের ফল ভালো হবে না: মাসদার হোসেন

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:১১ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৪৭ এএম ২০২৬
বিচার বিভাগ নিয়ে অধ্যাদেশ বাতিলের ফল ভালো হবে না: মাসদার হোসেন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের ফল ভালো হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলার বাদী মাসদার হোসেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ দুটি অধ্যাদেশ নিয়ে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাসদার হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতা আছে বলে কলমের খোঁচায় এতগুলো বিষয় মসনদে বসে বাতিল করে দিচ্ছেন। এই মুহূর্তে হ্যাঁ না ভোট করুন, জরিপ করুন— ৯৯ শতাংশ মানুষ আপনাদের কাজের বিরুদ্ধে মত দেবে। যেগুলো হচ্ছে, তা বিচার বিভাগকে পদদলিত করার শামিল। গুম হয়ে যারা মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন, তারা আজ সংসদ সদস্য। তাদের জিজ্ঞেস করে গুমের সংজ্ঞা ঠিক করুন।’

তিনি আরো বলেন, ‘গুটিকয়েক মানুষের চিন্তাচেতনায় এসব কাজ করা হচ্ছে। এর ফল ভালো হবে না। এই দিনই শেষ নয়, সামনে আরো দিন আছে। আপনারা পথ হারিয়ে ফেললে জনগণ আপনাদের সঠিক পথে নিয়ে আসবে।’

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে ২৮ জন বিচারকের কাছে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজ আইন মন্ত্রণালয় বিচারকদের শোকজ করছে। মনে রাখতে হবে, বিচারকদের একটি আলপিনের প্রয়োজন হলেও সুপ্রিম কোর্টের কাছে যেতে হয়। অথচ আইনমন্ত্রী কোন কর্তৃত্বে শোকজ করেছেন?’

তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনকারীদের রক্তের ওপর আপনাদের মসনদ প্রতিষ্ঠিত। আপনারা এমনি এমনি আসেননি। তাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করবেন না।’

হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন এবং ‘আইন ও বিচার’ পত্রিকার উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনায় বক্তব্য দেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম জজ ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ও জুলাই আন্দোলনের নেতা আরিফ সোহেল।

বিচারপতি আবদুল মতিন বলেন, ‘মাসদার হোসেন মামলার রায়ের প্রতিফলন হলো এ দুটি অধ্যাদেশ। কিন্তু আপনারা সেদিনই তা বাতিল করে দিলেন। বললেন, এর চেয়ে ভালো আইন করবেন। অথচ চাইলে আইন করে পরে সংশোধন করা যেত।’

তিনি আরো বলেন, এভাবে সবকিছু করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের শামিল।

উল্লেখ্য, মাসদার হোসেন বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক মামলার বাদী হিসেবে বাংলাদেশে সুপরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচারকদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও কাঠামোগত সংস্কারের প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তার দায়ের করা মামলার মাধ্যমেই দেশের বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা পরে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনে।

‌‘সরকার বনাম মাসদার হোসেন’ মামলার রায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগ এ মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ থেকে পৃথক করা এবং বিচারকদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এ রায়ের ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালে দেশে কার্যকরভাবে বিচার বিভাগ পৃথক হয়।

এসি/আপ্র/১১/০৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

অস্ত্র মামলায় সেই ফয়সাল করিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড
০৯ এপ্রিল ২০২৬

অস্ত্র মামলায় সেই ফয়সাল করিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফ...

আবু সাঈদ হত্যার রায় ঘোষণা: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
০৯ এপ্রিল ২০২৬

আবু সাঈদ হত্যার রায় ঘোষণা: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনা...

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ, দেখানো হবে বিটিভিতে
০৯ এপ্রিল ২০২৬

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ, দেখানো হবে বিটিভিতে

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার...

শেখ হাসিনার মামলায় ১২ হাজার কোটি টাকা লেনদেনের দাবিকারীকে গ্রেফতারের নির্দেশ
০৮ এপ্রিল ২০২৬

শেখ হাসিনার মামলায় ১২ হাজার কোটি টাকা লেনদেনের দাবিকারীকে গ্রেফতারের নির্দেশ

জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলাকে ঘিরে ১২ হাজার...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

মতামত জানান

‘অসম ও দেশবিরোধী’ মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। আপনি কি এই দাবির সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 15 ঘন্টা আগে