বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার জেরিকা তাসনিম দিশাকে দুই দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদে দিশা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে আদালতে দাখিল করা আবেদনে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুই দফা রিমান্ড শেষে দিশাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামির পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়নি।
কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা জানিয়েছেন, ঘটনার আগের দিন ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়েছিলেন তিনি। এর আগে সন্ধ্যায় তারা একসঙ্গে ঘোরাঘুরি করেন। বিভিন্ন স্থানে তাহসিফের মোটরসাইকেলেও ঘুরেছেন বলে দিশা জানিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা মামলার ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তিনি একাধিক প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং কিছু বিষয়ে নীরব থেকেছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরো বলা হয়, পুলিশ হেফাজতে থাকা মামলার সন্দেহভাজন আরেক আসামি ও তাহসিফের বন্ধুস্থানীয় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখা হয়েছে। তাহসিফের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করেও দিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি তদন্ত কর্মকর্তার। প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনায় দিশার সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে গত ১ নভেম্বর দিশাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালত তাকে প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর বুধবার দ্বিতীয় দফায় আরো তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।
এ মামলায় সন্দেহভাজন আরেক আসামি দীপকেও কয়েক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর প্রথম দফায় চার দিন, মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় তিন দিন এবং বৃহস্পতিবার আরো তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এর আগের দিন ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসার নিচে নেমে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন তাহসিফ।
দীপ ২৯ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি। তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের পর তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় দীপকে নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। পরে ৩০ অক্টোবর রাতে তাকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন রাতে তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা দায়ের করলে দীপকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মাদকস্পট হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেছিলেন দীপ। পরে পিবিআই কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৬/১১/২০২৬