রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন নেছার পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সড়ক ছেড়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে পুলিশের হামলার অভিযোগ তদন্তে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা। দাবি পূরণ না হলে আরো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ও দাবিগুলো তুলে ধরেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর ১টার পর তারা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন।
শিক্ষার্থীদের দুই দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, গভীর রাতে ক্যাম্পাসের ভেতরে ও আশপাশে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ তদন্তে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্য ও নির্দেশদাতা কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
দ্বিতীয় দাবিতে অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে কলেজে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিভিন্ন পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিপন্থী। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার আইনবহির্ভূতভাবে বহিরাগতদের ভাড়া দিয়েছেন। সরকারি কলোনিতে অন্যদের অবৈধভাবে জায়গা দেওয়ার অভিযোগে উচ্ছেদ করা হলেও অধ্যক্ষ নিজের কোয়ার্টারে বহিরাগতদের ভাড়া দিয়ে রেখেছেন বলে দাবি করেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, সহপাঠীদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। অধ্যক্ষের অধীনে কোনো একাডেমিক কার্যক্রমেও অংশ নেবেন না বলে ঘোষণা দেন তারা।
শিক্ষার্থী চৈতি সাহানা বলেন, আগামী দুই দিন দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তারা এই সময়ের জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছেন। সোমবার দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু হলে তাদের দাবিগুলো মেনে নিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এর আগে অধ্যক্ষের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
শুক্রবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনের সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডগামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
লালবাগ থানার ওসি জামিল হোসেন বলেন, কিছু শিক্ষার্থী কলেজের সামনের সড়ক আটকে কর্মসূচি পালন করছিলেন। তারা শান্তিপূর্ণভাবে দুপুর ২টার দিকে সড়ক ছেড়ে দেন। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী দুপুর ১টার পরই সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা প্রসঙ্গে ওসি বলেন, অধ্যক্ষকে উদ্ধার করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে এ সময় কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করা হয়নি।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৬/১১/২০২৬