দেশে গণহত্যা, হত্যাকাণ্ড ও আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে জনগণ আর রাজনীতি করতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এবং এখনো নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ না করা ব্যক্তিরা বাংলাদেশে ফিরে রাজনীতি করতে পারবেন না।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভায় আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরী মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলন ও দস্তারবন্দী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক আদর্শ ও মতপার্থক্য থাকলেও একটি বিষয়ে সবাইকে একমত হতে হবে- যারা দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে এবং দীর্ঘ ১৭ বছর আলেম-ওলামাদের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। যারা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করতে চায়, জনগণ তাদেরও প্রত্যাখ্যান করবে।
তিনি বলেন, যারা গণহত্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেনি, অনুশোচনা করেনি এবং গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে দিল্লিতে অবস্থান করছে, তারা আর বাংলাদেশে এসে রাজনীতি করতে পারবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি নিজেও তাঁদের একজন ছিলেন। এ সময়ে মানুষ নানা ধরনের অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এখন সেই হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করতে চান তাঁরা।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তাদের আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
বিএনপির ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতির কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁর দল সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই তাঁদের লক্ষ্য।
সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর প্রতি দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার এ বিষয়টি বাদ দিয়েছিল। সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে তা আবার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রণীত জুলাই সনদও বাস্তবায়ন করা হবে।
ধর্মের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করা কয়েকটি দলের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের কর্মকাণ্ডে ইসলামের প্রতিফলন নেই; বরং তারা দেশে বিভেদ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা যেতে পারে। তবে দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া যাবে না। যারা আন্দোলনের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চায়। আলেম-ওলামা ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/৬/১১/২০২৬