ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে আবারো দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তেহরান এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বলেছেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ইরানের সামনে এটি ‘শেষ সুযোগ’; অন্যথায় দেশটিকে আরো খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন।
তবে একই দিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না। এ অবস্থায় ট্রাম্প নিজের দাবির পক্ষে অনড় থেকে বলেন, “আমরা এখন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক হামলা চালানোর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলছে। মাঝেমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা গেলেও পাঁচ মাসের বেশি সময় পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, “এটি তাদের জন্য একটি ভালো চুক্তি সই করার শেষ সুযোগ। পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আগে আমি তাদের শেষবারের মতো সুযোগ দিতে চাই।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, আলোচনায় দুটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া, যা তাঁর মতে “হয়তো আগামীকালই” সম্ভব হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, যা বাস্তবায়নে আরো সময় লাগতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা এখনো ইরানের রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও ধরে রেখেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ‘অজ্ঞাত উৎস থেকে ক্ষেপণাস্ত্র’ আঘাত হেনেছে। জাহাজটির নাম, হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে শনিবার তিনি কিছুটা নরম সুরে বলেন, একটি সম্ভাব্য চুক্তির ‘কাঠামো’ প্রায় প্রস্তুত।
অন্যদিকে ইরান আবারো স্পষ্ট করেছে যে তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা করছে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হচ্ছে।”
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় এখন অন্যতম বড় প্রতিবন্ধক হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইরান সেখানে অবরোধ জোরদার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে বাধা দেওয়া এবং কিছু জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনাও সামনে এসেছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ইরান স্বীকার করুক বা না করুক, বহু বছর ধরে তৈরি হওয়া এ সংকটের সমাধান নিয়ে আমরা সত্যিই আলোচনা করছি।”
তিনি আরো বলেন, “ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ কার্যকর রয়েছে। আমরা না চাইলে ইরানে কিছুই পৌঁছাতে পারবে না। কোনো চুক্তি বা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ না হলে দেশটিতে কিছুই পৌঁছাতে দেওয়া হবে না।”
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। বর্তমানে ইরান জাহাজগুলোকে নিজেদের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করতে দিচ্ছে বলে জানা গেছে। বাঘাই জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে তেহরান, তবে এর অর্থ এই নয় যে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দেওয়া হবে।
যুদ্ধের শুরু থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতেই এই সংঘাতের প্রয়োজন হয়েছে। সর্বশেষ বক্তব্যেও তিনি বলেন, “অবশ্যই ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে।”
পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
সপ্তাহান্তে এয়ারফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প আরো দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্রদেশ তাঁকে ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তাঁর ভাষায়, সম্ভাব্য সেই হামলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের একটি হতে পারত। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সূত্র: এএফপি
সানা/ডিসি/আপ্র/৪/৮/২০২৬