পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের এখনো বাকি প্রায় দুই বছর। কিন্তু বিরল এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ডানেডিনে সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য পর্যটকদের আগ্রহ এতটাই বেড়েছে যে, একটি হোটেল দুই বছর আগেই পুরোপুরি বুক হয়ে গেছে।
কারণ, ২০২৮ সালের ২২ জুলাই ডানেডিন থেকে দেখা যাবে এমন এক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, যা এই শহরের আকাশে ফিরছে ৮৫০ বছরেরও বেশি সময় পর।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দিন বিকেল ৪টা ১৭ মিনিটে দক্ষিণ নিউজিল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। প্রায় ২ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের জন্য দিনের আলো ঢেকে গিয়ে নেমে আসবে অন্ধকার। দেশটির অন্যান্য অঞ্চল থেকেও কমবেশি এই গ্রহণ দেখা যাবে।
নিউজিল্যান্ডের মানুষ সর্বশেষ পুরো দেশজুড়ে সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পেয়েছিল ১৯৬৫ সালে। তবে ডানেডিন শহর থেকে সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ১১৬৩ সালে। তখনো নিউজিল্যান্ডে মানুষের বসতি গড়ে ওঠেনি।
ডানেডিনের তুহুরা ওটাগো মিউজিয়ামের পরিচালক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইয়ান গ্রিফিন বলেন, “ডানেডিন থেকে আমরাই প্রথম মানুষ হিসেবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে যাচ্ছি। এটি সত্যিই রোমাঞ্চকর একটি ঘটনা।”
এই মহাজাগতিক ঘটনাকে ঘিরে গ্রিফিনের আগ্রহের মাত্রাও বিশেষ। শুধু সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য তিনি ২০১৩ সালে ডানেডিন শহরে একটি বাড়ি কিনেছিলেন।
এদিকে সূর্যগ্রহণকে কেন্দ্র করে শহরের পর্যটন খাতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে ডানেডিন লেজার লজ নামের একটি হোটেলের সব কক্ষ বুক হয়ে গেছে। হোটেলটি গ্রহণ দেখার বিশেষ প্যাকেজও চালু করেছে, যেখানে পর্যটকদের জন্য সূর্যগ্রহণ দেখার বিশেষ চশমার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
শহরের অন্য হোটেলগুলোতেও এরই মধ্যে বুকিংয়ের জন্য আগ্রহীদের ভিড় বাড়ছে। আয়োজকদের ধারণা, ২০২৮ সালের ওই বিরল দৃশ্য দেখতে ডানেডিন শহরে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় ডানেডিন মিউজিয়ামে শুরু হয়েছে সময় গণনা। গ্রহণ শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এসে থামবে সেই গণনা।
ডানেডিনের মেয়র সোফি বার্কার বলেন, “সূর্যগ্রহণ ঘিরে উত্তেজনা এরই মধ্যে পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। অসাধারণ এই ঘটনার দিন আর বেশি দূরে নয়।”
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ পৃথিবীর অন্যতম বিরল ও আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য। চাঁদ যখন সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে, তখন অল্প সময়ের জন্য দিনের আকাশে রাতের আবহ তৈরি হয়-যে দৃশ্য দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে যান নির্দিষ্ট স্থানে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৬/৭/২০২৬