গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড ভোটদান, তৃণমূল-বিজেপির পাল্টাপাল্টি জয়ের দাবি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১৩ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০৮:৩৪ এএম ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড ভোটদান, তৃণমূল-বিজেপির পাল্টাপাল্টি জয়ের দাবি
ছবি

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, প্রথম দফায় প্রায় ৯২ থেকে ৯৩ শতাংশ ভোট পড়ে, যা স্বাধীনতার পর থেকে সর্বোচ্চ -ছবি সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ডসংখ্যক ভোটগ্রহণের পর জয়-পরাজয়ের হিসাব কষতে শুরু করেছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি। উভয় পক্ষই নিজেদের এগিয়ে থাকার দাবি করছে।

২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম দফায় রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৫২টিতে ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, এ দফায় প্রায় ৯২ থেকে ৯৩ শতাংশ ভোট পড়ে, যা স্বাধীনতার পর থেকে সর্বোচ্চ। কিছু ক্ষেত্রে ভোটের হার ৯৬ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছায়। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় বাকি ১৪২টি আসনে ভোট হবে এবং ৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ১৪৮টি আসন।

ভোট শেষে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, প্রথম দফাতেই তারা সরকার গঠনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। দলটির নেতা কুনাল ঘোষের ভাষ্য, ১৫২ আসনের মধ্যে অন্তত ১২৫টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ১৩৫ পর্যন্তও হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন, জনগণের মনোভাব অনুযায়ী তারা ইতোমধ্যে “চালকের আসনে” রয়েছে।

তৃণমূলের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার কারণে অনেক বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় মানুষ ব্যাপকভাবে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন এবং সেই ভোট তাদের পক্ষেই গেছে। বিশেষ করে নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি ছিল বলে তারা উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে বিজেপি শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, এবারের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে সহিংসতামুক্ত হয়েছে এবং এতে মানুষের “প্রকৃত ইচ্ছা” প্রতিফলিত হবে। তার মতে, উচ্চ ভোটার উপস্থিতি রাজ্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং তৃণমূলের সময় শেষের দিকে।

প্রথম দফার ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হলেও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন এলাকায়। মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, কোচবিহারসহ কয়েকটি জেলায় ছোটখাটো সংঘাত, ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অতীত নির্বাচনের তুলনায় বড় ধরনের সহিংসতা হয়নি বলে পর্যবেক্ষকদের মত।

বিশ্লেষকদের মধ্যে ভোটের উচ্চ হার নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলছেন এটি ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে জনমতের ইঙ্গিত, আবার কেউ মনে করছেন ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে উদ্বেগ থেকেই বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন। পরিযায়ী শ্রমিকসহ বহু মানুষ দূরদূরান্ত থেকে ফিরে এসে ভোট দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

সব মিলিয়ে রেকর্ডসংখ্যক ভোট, তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং তৃণমূল-বিজেপির পাল্টাপাল্টি জয়ের দাবি—এসবের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এখন চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা ৪ মে পর্যন্ত।
সানা/আপ্র/২৪/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

৯/১১-এর ২৫ বছর: নিরাপত্তা বাড়লো, সন্ত্রাস কি কমলো?
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৯/১১-এর ২৫ বছর: নিরাপত্তা বাড়লো, সন্ত্রাস কি কমলো?

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের চারটি বিমান ছিনতাই ছিল শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলা নয়; এটি ছিল বৈশ্বিক নিরা...

বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে হুথিরা
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে হুথিরা

ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথিরা লোহিত সাগরের তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর আল-মাখা (মোচা)-এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছ...

ইউক্রেন ইস্যুতে চুক্তিতে আসতে চান পুতিন, দাবি ট্রাম্পের
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেন ইস্যুতে চুক্তিতে আসতে চান পুতিন, দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার ট...

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 ঘন্টা আগে