গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মেনু

পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড ভোটদান, তৃণমূল-বিজেপির পাল্টাপাল্টি জয়ের দাবি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১৩ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪৪ এএম ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড ভোটদান, তৃণমূল-বিজেপির পাল্টাপাল্টি জয়ের দাবি
ছবি

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, প্রথম দফায় প্রায় ৯২ থেকে ৯৩ শতাংশ ভোট পড়ে, যা স্বাধীনতার পর থেকে সর্বোচ্চ -ছবি সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ডসংখ্যক ভোটগ্রহণের পর জয়-পরাজয়ের হিসাব কষতে শুরু করেছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি। উভয় পক্ষই নিজেদের এগিয়ে থাকার দাবি করছে।

২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম দফায় রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৫২টিতে ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, এ দফায় প্রায় ৯২ থেকে ৯৩ শতাংশ ভোট পড়ে, যা স্বাধীনতার পর থেকে সর্বোচ্চ। কিছু ক্ষেত্রে ভোটের হার ৯৬ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছায়। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় বাকি ১৪২টি আসনে ভোট হবে এবং ৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ১৪৮টি আসন।

ভোট শেষে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, প্রথম দফাতেই তারা সরকার গঠনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। দলটির নেতা কুনাল ঘোষের ভাষ্য, ১৫২ আসনের মধ্যে অন্তত ১২৫টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ১৩৫ পর্যন্তও হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন, জনগণের মনোভাব অনুযায়ী তারা ইতোমধ্যে “চালকের আসনে” রয়েছে।

তৃণমূলের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার কারণে অনেক বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় মানুষ ব্যাপকভাবে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন এবং সেই ভোট তাদের পক্ষেই গেছে। বিশেষ করে নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি ছিল বলে তারা উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে বিজেপি শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, এবারের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে সহিংসতামুক্ত হয়েছে এবং এতে মানুষের “প্রকৃত ইচ্ছা” প্রতিফলিত হবে। তার মতে, উচ্চ ভোটার উপস্থিতি রাজ্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং তৃণমূলের সময় শেষের দিকে।

প্রথম দফার ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হলেও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন এলাকায়। মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, কোচবিহারসহ কয়েকটি জেলায় ছোটখাটো সংঘাত, ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অতীত নির্বাচনের তুলনায় বড় ধরনের সহিংসতা হয়নি বলে পর্যবেক্ষকদের মত।

বিশ্লেষকদের মধ্যে ভোটের উচ্চ হার নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলছেন এটি ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে জনমতের ইঙ্গিত, আবার কেউ মনে করছেন ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে উদ্বেগ থেকেই বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন। পরিযায়ী শ্রমিকসহ বহু মানুষ দূরদূরান্ত থেকে ফিরে এসে ভোট দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

সব মিলিয়ে রেকর্ডসংখ্যক ভোট, তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং তৃণমূল-বিজেপির পাল্টাপাল্টি জয়ের দাবি—এসবের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এখন চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা ৪ মে পর্যন্ত।
সানা/আপ্র/২৪/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, ককরোচ পার্টির আন্দোলন প্রত্যাহার
২৫ জুলাই ২০২৬

প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, ককরোচ পার্টির আন্দোলন প্রত্যাহ...

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর অব...

বিশ্ব বদলের সম্ভাবনায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানী তনিমার স্বীকৃতি
২৫ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব বদলের সম্ভাবনায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানী তনিমার স্বীকৃতি

বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী তনিমা তাসনিমকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় বিজ্ঞানীদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে...

সেপ্টেম্বরে সব সেবা বন্ধ করছে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বিটমেক্স
২৫ জুলাই ২০২৬

সেপ্টেম্বরে সব সেবা বন্ধ করছে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বিটমেক্স

বিশ্বব্যাপী ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের দীর্ঘস্থায়ী মন্দার মধ্যে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে...

চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার নার্সের পাল্টা বিস্ফোরক অভিযোগ
২৫ জুলাই ২০২৬

চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার নার্সের পাল্টা বিস্ফোরক অভিযোগ

ভারতের রাজস্থানে দুই কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার এক নার্স আদালতে তোলার আগে এক চিকিৎসকের বি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

সাহাবুদ্দিন বর্তমান সরকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন

গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে