চার হাজার বছরের পুরোনো ওষুধ অ্যাসপিরিন নতুন করে ক্যানসার প্রতিরোধে সম্ভাব্য ভূমিকার কারণে আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাজ্যে পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ওষুধটি গ্রহণ করলে কিছু নির্দিষ্ট টিউমার গঠন ও ছড়িয়ে পড়া কমাতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে একজন যুক্তরাজ্যের নাগরিক নিক জেমস, যিনি জেনেটিক পরীক্ষায় লিঞ্চ সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে ছিলেন। তিনি গবেষণামূলক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন অ্যাসপিরিন গ্রহণ করছেন এবং এখনো ক্যানসার শনাক্ত হয়নি বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।
নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর ক্লিনিক্যাল জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক জন বার্ন বলেন, লিঞ্চ সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যানসার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি হলেও অ্যাসপিরিন সেই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
গবেষণার ইতিহাসে দেখা যায়, ২০১০ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা হৃদ্রোগ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথম বড় আকারে ইঙ্গিত দেন যে অ্যাসপিরিন ক্যানসার শুরু হওয়া ও ছড়িয়ে পড়া কমাতে পারে।
অ্যাসপিরিনের উৎপত্তি প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় উইলোগাছ থেকে পাওয়া স্যালিসিন নামের উপাদান পর্যন্ত প্রসারিত। পরে আধুনিক রসায়নের মাধ্যমে এটি অ্যাসিটাইলস্যালিসিলিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়, যা বর্তমানে অ্যাসপিরিন নামে পরিচিত।
গবেষকদের মতে, ওষুধটি শরীরে একাধিক প্রক্রিয়ায় কাজ করে। এটি কোষের ভেতরের কক্স–২ নামের এনজাইম দমন করে, যা ক্যানসার সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে এমন রাসায়নিক উৎপাদন কমায়। পাশাপাশি এটি রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থ্রম্বোক্সেন নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে ইমিউন সিস্টেম ক্যানসার কোষ শনাক্তে আরো কার্যকর হতে পারে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়-এর গবেষকেরা জানিয়েছেন, থ্রম্বোক্সেনের উচ্চ মাত্রা ক্যানসার কোষকে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা থেকে আড়াল করতে পারে, আর অ্যাসপিরিন সেটি দমন করতে সাহায্য করতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অ্যাসপিরিন সবার জন্য নয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে এবং সব ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর না–ও হতে পারে। তাই এটি ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে অ্যাসপিরিন ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে কি না-তা নিয়ে আরো দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।
সানা/ডিসি/আপ্র/২২/৪/২০২৬