গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মেনু

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এবার মাছের রাজনীতি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:১১ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০২:০২ এএম ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এবার মাছের রাজনীতি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রচারে এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে ‘মাছ’। রাজ্যের বিভিন্ন প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে মাছকে কেন্দ্র করে অভিনব প্রচারণা চালাচ্ছে, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসকে ঘিরে আবেগের রাজনৈতিক রূপ প্রকাশ করছে।

কলকাতার ব্যারাকপুর আসনে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন হাতে আস্ত মাছ নিয়ে। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ঢাকের বাদ্যের তালে সমর্থকদের নিয়ে তিনি এলাকায় ঘুরে ভোটারদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরছেন। তাঁর প্রচারে বড় কোনো নীতিগত বক্তব্যের পরিবর্তে বার্তা দেওয়া হচ্ছে-তিনি সাধারণ মানুষেরই একজন।

একইভাবে কলকাতার বন্দর এলাকায় বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংও মাছকে কেন্দ্র করে প্রচার চালাচ্ছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তিনি বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উভয় প্রার্থীর প্রচারেই মাছ হাতে জনসংযোগ একটি প্রতীকী রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও মাছকে কেন্দ্র করে প্রচার জোরদার করেছে। দলীয় নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন জনসভায় দাবি করছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার মানুষের খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তাঁর বক্তব্যে মাছ, মাংস ও ডিমের মতো খাদ্যকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক সভায় বলেছেন, বাংলার মানুষের প্রধান খাদ্য মাছ-ভাত। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপিশাসিত কিছু রাজ্যে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক মনোভাব দেখা যায়, যা বাংলার সংস্কৃতির পরিপন্থী। অন্যদিকে বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটি রাজনৈতিক প্রচারণার অংশমাত্র।

বিজেপি নেতারা পাল্টা দাবি করছেন, মাছকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে শাসক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরোধ নেই।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, বাংলায় মাছের উৎপাদন পর্যাপ্ত হলেও বহিরাগত উৎসের ওপর নির্ভরতা রয়েছে, যা প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত বহন করে। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, রাজ্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনই চাহিদার বড় অংশ পূরণ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে মাছ কেবল খাদ্য নয়, বরং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, মাছ এখানে সামাজিক মর্যাদা, ভৌগোলিক পরিচয় এবং ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই কারণে রাজনৈতিক প্রচারে এর ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর হয়ে উঠেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যার বড় অংশ নিয়মিত মাছ খায়। এই বাস্তবতা রাজনৈতিক দলগুলোকে সাংস্কৃতিক আবেগকে নির্বাচনী কৌশলে রূপান্তর করতে সহায়তা করছে।

সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও মাছ বাঙালির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বারবার উঠে এসেছে। পদ্মা নদীর মাঝি ও দ্য হাংরি টাইডের মতো সাহিত্যকর্মে মাছকে জীবনের সংগ্রাম ও বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ফলে বর্তমান নির্বাচনী প্রচারে মাছের উপস্থিতি কেবল প্রতীকী নয়, বরং গভীর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অর্থ বহন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা দেখায় কীভাবে স্থানীয় সংস্কৃতি ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন এখন শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র নয়, বরং সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস ও পরিচয়ের এক জটিল সমন্বয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে মাছ একটি কেন্দ্রীয় প্রতীকে রূপ নিয়েছে।


সানা/ডিসি/আপ্র/২১/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

১১তম দিনেও ইরানে মার্কিন হামলা, তেহরানেও বিস্ফোরণ
২২ জুলাই ২০২৬

১১তম দিনেও ইরানে মার্কিন হামলা, তেহরানেও বিস্ফোরণ

টানা ১১তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী...

নিট প্রশ্নফাঁসে উত্তাল দিল্লি, চাপে মোদি সরকার
২২ জুলাই ২০২৬

নিট প্রশ্নফাঁসে উত্তাল দিল্লি, চাপে মোদি সরকার

ভারতের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনিয়ম ও...

বিশ্বকাপ শেষে কানাডায় ৫০ শতাংশ শুল্ক ট্রাম্পের
২১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ শেষে কানাডায় ৫০ শতাংশ শুল্ক ট্রাম্পের

ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হতেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সহ-আয়োজক কানাডার বিরুদ্ধে বড় বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিয়েছেন...

শরিয়াহ আইন নিয়ে বক্তব্যে বিতর্কে ট্রাওরে
২১ জুলাই ২০২৬

শরিয়াহ আইন নিয়ে বক্তব্যে বিতর্কে ট্রাওরে

বুরকিনা ফাসোতে শরিয়াহ আইন চালুর কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সামরিক নেতা ই...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই