ইউরোপের অন্যতম অর্থনীতির দেশ স্পেন অনিয়মিতভাবে বসবাস ও কাজ করা প্রায় পাঁচ লাখ অভিবাসীকে আইনি মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের অনুমোদিত ‘অভিবাসী ক্ষমা’ সংক্রান্ত ডিক্রির ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নথিবিহীন অভিবাসীরা বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
মঙ্গলবার মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদনের পর ১৫ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। সরাসরি আবেদন করতে চাইলে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে নির্ধারিত অফিসগুলোতে গিয়ে আবেদন করা যাবে। পুরো প্রক্রিয়া চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে অবশ্যই ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে। পাশাপাশি কমপক্ষে পাঁচ মাস বসবাসের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না।
এই উদ্যোগের আওতায় মূল আবেদনকারীর নাবালক সন্তানেরাও একই সঙ্গে আইনি মর্যাদা পাবে এবং তারা সরাসরি পাঁচ বছরের অনুমতি লাভ করবে।
দেশজুড়ে ৬০টি সামাজিক নিরাপত্তা অফিস, ৩৭১টি ডাকঘর এবং পাঁচটি বড় অভিবাসন অফিসে সরাসরি আবেদন জমা দেওয়া যাবে। অনলাইন আবেদন ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, স্পেনের অর্থনীতি অনেকাংশে বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। কৃষি, পর্যটন ও সেবা খাতে শ্রমঘাটতি পূরণ এবং কর্মরত অভিবাসীদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার প্রেক্ষাপটে স্পেনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। যদিও রক্ষণশীল রাজনৈতিক দলগুলো সমালোচনা করেছে, তবে ক্যাথলিক চার্চ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
এ ঘোষণায় স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর মধ্যে আশাবাদ ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে বৈধতার অপেক্ষায় ছিলেন।
এসি/আপ্র/১৬/০৪/২০২৬