যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন ২১ হাজার ৫০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে, যা মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় আকারের ছাঁটাই, সর্বশেষ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ২০১১ সালে।
লন্ডনে সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অল-স্টাফ বৈঠকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী মহাপরিচালক রদ্রি তালফান ডেভিস। তিনি কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় জানান, সংস্থাটি বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে এবং দ্রুত ব্যয়-সংকোচন জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৫০০ কোটি পাউন্ড। আগামী দুই বছরে অন্তত ৫০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বড় অংশ বাস্তবায়ন হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে। ব্যয় ও আয়ের ব্যবধান ক্রমশ বাড়তে থাকায় কর্মী সংখ্যা কমানো অনিবার্য হয়ে উঠেছে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতেই বাজেট সংকোচনের আভাস দিয়ে কর্তৃপক্ষ ৬০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তৎকালীন মহাপরিচালক টিম ডেভি সে সময় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। পরে বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্কের মুখে গত নভেম্বরে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ২ এপ্রিল দায়িত্ব ছাড়েন তিনি।
এদিকে আগামী ১৮ মে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ম্যাথিউ জন ব্রিটিন। তার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এ ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হলো।
কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলো। সম্প্রচার ও বিনোদন খাতের কর্মীদের সংগঠনের নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, এত বড় পরিসরের ছাঁটাই শুধু কর্মীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করবে না, বরং বিবিসির সামগ্রিক সংবাদ কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংগঠনের নেতাদের মতে, জাতীয় এই সংবাদমাধ্যমের সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকারের উচিত বরাদ্দ বাড়ানো এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং লাইসেন্স ফি ও বাণিজ্যিক আয়ের চাপ—সব মিলিয়ে বিবিসির আর্থিক সংকট তীব্র হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে।
এসি/আপ্র/১৬/০৪/২০২৬