বাড়ির পেছনের বাগানে টেরেস নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে ইতিহাসের এক বিরল ও অমূল্য রৌপ্যভান্ডারের সন্ধান পেয়েছেন ডেনমার্কের এক বাসিন্দা। দেশটির রেবিল্ড এলাকায় মাটি সরাতেই একে একে বেরিয়ে আসে প্রায় এক হাজার বছর আগের ভাইকিং যুগের সাড়ে ১৮ কেজি ওজনের বিভিন্ন রৌপ্যসামগ্রী। প্রত্নতাত্ত্বিকদের দাবি, দেশটির ইতিহাসে এত বিপুল পরিমাণ ভাইকিং যুগের রৌপ্যভান্ডার আবিষ্কারের ঘটনা এটাই প্রথম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি বাড়ির মালিক নিজ বাগানে টেরেস নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়ছিলেন। এ সময় মাটির নিচে হঠাৎ রূপালি কিছু বস্তু দেখতে পান তিনি। পরে স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিকদের খবর দিলে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। তারা নিশ্চিত হন, এগুলো কোনো সাধারণ ধাতব অংশ নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা ভাইকিং যুগের রৌপ্যনিদর্শন।
ঐতিহাসিক এই আবিষ্কারে সব মিলিয়ে প্রায় ৭০০টি রুপার তৈরি সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিখুঁতভাবে তৈরি রুপার দণ্ড, বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী অলংকার, প্রাচীন মুদ্রা এবং ভাইকিং পুরাণে বর্ণিত ‘থরের হাতুড়ি’র আদলে তৈরি একটি ক্ষুদ্র রূপালি প্রতিরূপ। প্রায় এক হাজার বছর মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকলেও অধিকাংশ নিদর্শনের অবস্থা বেশ ভালো রয়েছে।
প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা জানান, ভাইকিং সমাজে রুপার গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত বেশি। যুদ্ধজয়, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ বিনিময়মাধ্যম হিসেবে রুপা ব্যবহার করা হতো। এক জায়গায় এত বিপুল পরিমাণ রৌপ্যসামগ্রী কীভাবে জমা হলো, তা নিয়ে এখন বিশদ গবেষণা চলছে। এর পেছনে সে সময়ের কোনো বিশেষ সামাজিক পরিস্থিতি, বাণিজ্যিক সংঘাত কিংবা নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা কাজ করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে বিশেষজ্ঞ দল উদ্ধার করা ধাতব সামগ্রীর উৎস ও আনুমানিক বয়স নির্ধারণের কাজ করছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এই আবিষ্কার ভাইকিং যুগের মানুষের জীবনযাত্রা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সে সময়ের বিস্তৃত বাণিজ্যব্যবস্থা সম্পর্কে নতুন ঐতিহাসিক তথ্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এসি/আপ্র/১৩/০৯/২০২৬