বেসরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে ‘নতুন সার্ভিস রুলস’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এই সার্ভিস রুলসে ন্যূনতম বেতন, নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ছুটি ও পদোন্নতিসহ চাকরিজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত সার্ভিস রুলসে চাকরিজীবীদের আচরণবিধি, দুর্নীতির তদন্ত, শৃঙ্খলা, আইনি সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলোও সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি শিশুশ্রম প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরির সুযোগ, চাকরি স্থায়ীকরণ, ক্ষতিপূরণ আদায়, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং চাকরি থেকে অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও এতে রাখা হচ্ছে।
‘নতুন সার্ভিস রুলস’ নিয়ে সর্বশেষ গত ১০ মে একটি মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, চেম্বার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এরপর এ বিষয়ে আর কোনো সভা বা অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, সার্ভিস রুলস তৈরির ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ ও ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫’-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজন আনা হবে। এ জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা জামানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন সার্ভিস রুলস তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হবে। পরে তা সরকারের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।
বেসরকারি চাকরিজীবীরা জানান, শ্রম আইন-২০০৬ ও শ্রম বিধিমালা-২০১৫ দেশে বেসরকারি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ আইন ও বিধিমালা। এসবের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিভিন্ন নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সামঞ্জস্য রয়েছে। তারপরও দেশে বেসরকারি খাতের অনেক ক্ষেত্রে এসব আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ-২০২৪ অনুযায়ী, দেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার। এর মধ্যে ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ বেসরকারি, যৌথ উদ্যোগ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। আরো ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত। অর্থাৎ দেশের মোট কর্মীর ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশই বেসরকারি খাতে কাজ করছেন।
এসি/আপ্র/১৩/০৯/২০২৬