‘সূর্য ডোবার পর টক খেতে নেই’ মা কিংবা দাদি-নানির মুখে এমন কথা হয়তো শুনেছেন। অনেকেই এমন কথা পুরনো আমলের কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু এই বারণের পেছনে লুকিয়ে আছে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদের এক গভীর ও অকাট্য যুক্তি। সুস্থ থাকতে এই নিয়ম মেনে চলা জরুরি- এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন সন্ধ্যার পর টকজাতীয় খাবার খেতে মানা করা হয়? খেলে যা হয়, তা হলো-
অ্যাসিডিটি: টক জাতীয় খাবার প্রকৃতিগতভাবেই অম্লীয় বা অ্যাসিডিক। ফলে এসব খাবার পাকস্থলীর ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। ঘুমানোর ঠিক আগে টক খাবার খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা হঠাৎ করেই অনেকটা বেড়ে যেতে শুরু করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়া বা মারাত্মক অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগতে হতে পারে।
হঠাৎ সর্দি-কাশি: আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী রাতে টক খাবার খেলে শরীরের ভেতরে শ্লেষ্মা বা কফ তৈরির প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে হুট করেই সর্দি-কাশি হওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো অস্বস্তি দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ভোরের দিকে নাক বন্ধ হয়ে আসা বা ক্লান্তিবোধ হওয়ার অন্যতম বড় কারণ এটি।
ওজন বৃদ্ধি: যারা কঠোর ডায়েট করে ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তারা ভুলেও রাতের বেলা টক খাবার খাবেন না। টক স্যুপ বা ভিনেগারযুক্ত খাবার শরীরে জলীয় অংশ জমিয়ে ফেলে এবং ওজন বাড়িয়ে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করে। তাই ডায়েট চার্টে রাতে টক কিছু রাখা উচিত নয়।
হজমে গণ্ডগোল: দিনের বেলা আমাদের শরীর যতা সক্রিয় থাকে, সূর্যাস্তের পর বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম ততাই ধীর হয়ে যায়। তাই তখন পাচক রসগুলো খাবার হজম করার জন্য দিনের মতো অতা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে না। ফলে রাতের টক খাবার পেটে গিয়ে হজমের বদলে অস্বস্তিই বেশি তৈরি করে।
টক খাওয়ার সময়: টক কিছু খেতে চাইলে অবশ্যই বিকেলের রোদে বা দুপুরের খাবারের সঙ্গে খেয়ে নিন। সুস্থ শরীর আর চমৎকার ঘুমের জন্য ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে সব ধরনের ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন, রাতের সঠিক খাদ্যাভ্যাসই আগামীর সুস্থতা নির্ধারণ করে।
কেএমএএ/আপ্র/১০.০৫.২০২৬