সকালের নাস্তা হোক বা রাতের খাবার- ব্যস্ততার চাপে অনেকেই কয়েক মিনিটেই প্লেট খালি করে ফেলেন। সময় বাঁচানোর এ অভ্যাসটাকেই আমরা স্বাভাবিক মনে করি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের গতি যদি খুব বেশি হয়; তাহলে অজান্তেই শরীরের ওপর চাপ তৈরি হয়- যার প্রভাব দেখা যেতে পারে হজম থেকে শুরু করে ওজন পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে।
‘দ্রুত খাওয়া’ বলতে কতটা দ্রুত: বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কেউ নিয়মিতভাবে ২০-৩০ মিনিটের কম সময়ে একটি মিল শেষ করেন; তাহলে সেটিকে দ্রুত খাবার খাওয়া বলা যায়। কারণ শরীরের ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া কাজ করে। ‘পেট ভরে গেছে’- এই সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। এই সময়ের আগেই যদি খাবার শেষ হয়ে যায়, তাহলে মস্তিষ্ক বুঝতেই পারে না কখন থামতে হবে।
তাড়াহুড়া করে খেলে যা হয়, তা হলো-
বেশি খেয়ে ফেলার ঝুঁকি: দ্রুত খাওয়ার ফলে পেট ভরে যাওয়ার সংকেত আসার আগেই অনেক বেশি খাবার খেয়ে ফেলা হয়। এতে ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে পারে।
হজমের সমস্যা: ঠিকভাবে চিবিয়ে না খেলে খাবার বড় টুকরায় পাকস্থলীতে যায়। এতে বদহজম, অস্বস্তি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।
পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি: দ্রুত খাওয়ার সময় অনেকেই অজান্তে বেশি বাতাস গিলে ফেলেন, যা পেট ফাঁপা বা ভারী লাগার কারণ হতে পারে।
পুষ্টি শোষণে সমস্যা: খাবার ভালোভাবে চিবানো না হলে শরীর সব পুষ্টি ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না।
ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্ক: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দ্রুত খাবার খান; তাদের মধ্যে স্থূলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে ধীরে-সুস্থে খাওয়া মানুষরা সাধারণত কম ক্যালরি গ্রহণ করেন—ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
অভ্যাসটাই আসল সমস্যা: দ্রুত খাওয়ার পেছনে বড় কারণ হলো মনোযোগের অভাব। টিভি দেখতে দেখতে খাওয়া; মোবাইল স্ক্রল করতে করতে খাওয়া; কাজের ফাঁকে তাড়াহুড়ো করে খাওয়া; এসব ক্ষেত্রে আমরা বুঝতেই পারি না কতটা খেয়ে ফেলছি।
খাওয়ার গতি যেভাবে কমানো যায়, তা হলো-
মনোযোগ দিয়ে খাবার খাওয়া: খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইল থেকে দূরে থাকুন।
ধীরে চিবানো: প্রতিটি খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান—এতে স্বাভাবিকভাবেই গতি কমবে।
মাঝখানে বিরতি নেওয়া: কয়েক চামচ খাওয়ার পর একটু থামুন। এতে মস্তিষ্ক সংকেত ধরতে সময় পায়।
অভ্যাসে পরিবর্তন আনা: চামচ বদলানো বা ধীরে খেতে বাধ্য করে—এমন ছোট পরিবর্তনও কাজে দেয়।
ফাস্টফুড খাওয়া কমানো: নরম ও প্রক্রিয়াজাত খাবার দ্রুত খাওয়া যায়। এর বদলে শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে স্বাভাবিকভাবেই সময় বেশি লাগে।
খাবার শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়: খাবার শুধু শরীরের জ্বালানি নয়, এটি উপভোগেরও একটি অংশ। দ্রুত খেলে ওই আনন্দটাও হারিয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় নিয়ে খেলে শুধু শরীরই ভালো থাকে না—খাবারের স্বাদও বেশি অনুভব করা যায়।
ব্যস্ত জীবনে সময়ের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু খাবারের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োটা হতে পারে উল্টো ক্ষতির কারণ। তাই একটু সময় নিয়ে, মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সুস্থ থাকার সহজ কিন্তু কার্যকর একটি উপায়।
সূত্র: অনলাইন
আপ্র/কেএমএএ/০৯.০৫.২০২৬