বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলস বা শর্ট ভিডিওর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। বিশেষ করে খাবার, ঘরোয়া টোটকা এবং ভেষজ চিকিৎসা বিষয়ক ভিডিওগুলো খুব দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। কিন্তু এই আকর্ষণের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি- যা অনেকেই বুঝতে পারছেন না।
ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওতে প্রায়ই দাবি করা হয়- ‘মাত্র কয়েকদিনেই রোগমুক্তি’, ‘প্রাকৃতিক উপায়ে স্থায়ী সমাধান’ ইত্যাদি। দ্রুত ফলের আশায় অনেকেই যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব ভেষজ উপাদান সেবন শুরু করেন। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব তথ্যের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা চিকিৎসা সমর্থন থাকে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভেষজ ওষুধ গ্রহণ শরীরে নানামুখী জটিলতা তৈরি করতে পারে, যা কখনও কখনও মারাত্মক আকার ধারণ করে।
রিলস দেখে ভেষজ ব্যবহারের ঝুঁকিগুলো হলো-
ভুল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা: রিলসে দেখানো উপসর্গ দেখে অনেকেই নিজেই রোগ নির্ণয় করে ভেষজ খেতে শুরু করেন। এতে প্রকৃত রোগ আড়ালে থেকে যায় এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় সমস্যা জটিল হয়ে ওঠে।
কিডনি ও লিভারের ক্ষতি: অনেক ভেষজ উপাদানে প্রাকৃতিক টক্সিন থাকে, যা অতিরিক্ত বা ভুলভাবে গ্রহণ করলে লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। সঠিক মাত্রা না জানলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: জনপ্রিয় কিছু ভেষজ যেমন করলার রস, চিরতা বা মেথি অতিরিক্ত গ্রহণে রক্তে শর্করা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া), মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অ্যালার্জি ও প্রতিক্রিয়া: প্রত্যেকের শারীরিক গঠন আলাদা। একজনের জন্য উপকারী ভেষজ অন্যজনের শরীরে তীব্র অ্যালার্জির সৃষ্টি করতে পারে। শ্বাসকষ্ট, ত্বকে র্যাশ বা ফোলাভাবের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে বিরূপ প্রতিক্রিয়া: যারা নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা অন্য রোগের ওষুধ খান- তাদের ক্ষেত্রে ভেষজ উপাদানের সঙ্গে ওষুধের প্রতিক্রিয়া হয়ে শরীরের ভেতরে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী শুধু রিলস বা সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও দেখে কোনও ওষুধ বা ভেষজ গ্রহণ করা উচিত নয়। যেকোনো শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
ভেষজ চিকিৎসা নিতে চাইলে অভিজ্ঞ আয়ুর্বেদিক বা ইউনানি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য সব সময় নির্ভরযোগ্য নাও হতে পারে। তাই চটকদার ভিডিওর প্রলোভনে না পড়ে বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা পদ্ধতিতে আস্থা রাখুন। সচেতন সিদ্ধান্তই আপনাকে রাখতে পারে নিরাপদ ও সুস্থ।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে
আপ্র/ কেএমএএ/০৭.০৫.২০২৬