দেশে হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ কোনো টিকা পায়নি। আক্রান্তদের ১৪ শতাংশ প্রথম ডোজ নিয়েছিল, আর ১২ শতাংশ দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যের ভিত্তিতে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বুধবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ ম্যানেজার (ইমিউনাইজেশন) ডা. রিয়াদ মাহমুদ।
তিনি বলেন, গত ৫ এপ্রিল একযোগে ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। ইতোমধ্যে তিন সপ্তাহ পার হয়েছে। যেসব উপজেলায় এই কর্মসূচি চালানো হয়েছে, সেখানে নতুন রোগী পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ধারণা করা যাচ্ছে, মে মাসের শেষ নাগাদ হামের প্রকোপ কমে আসতে পারে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হামে শিশু মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে না। পাশাপাশি পরীক্ষার কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে রোগ শনাক্তে সময় লাগছে।
তিনি বলেন, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) টিকা আগামী মাসের শুরুতেই দেশে পৌঁছাবে। বর্তমানে সব হাসপাতালে আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু থাকায় আক্রান্তদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের সুযোগ নেই। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায় অতিক্রম করে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে
ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিম উপস্থিত ছিলেন।
দেড় মাসে হামের উপসর্গে প্রাণ গেলো ২২৭ শিশুর: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩১৮ জন এবং একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮৮ জন। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ২২৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৭ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে গত দেড় মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৪ হাজার ৩১৯ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ২০ হাজার ৮২২ জন।
সানা/আপ্র/২৯/৪/২০২৬