খান অপূর্ব আহমদ
ভুলে যাওয়ার রোগ মানে স্মৃতিভ্রংশ বা মেমোরি লস। এটি হঠাৎ করে হয় না। ধীরে ধীরে নানা কারণে এটা দেখা দিতে পারে। তবে কিছু বিষয় সচেতন থাকলে এই রোগ থেকে কিছুটা ঝুঁকিমুক্ত থাকা যেতে পারে। ভুলে যাওয়ার কারণগুলো হলো-
অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা: চিন্তা বেশি হলে মস্তিষ্ক ঠিকমতো তথ্য ধরে রাখতে পারে না। তাই সাম্প্রতিক ঘটনা ভুলে যেতে শুরু করি।
ঘুমের অভাব: নিয়মিত ঘুম না হলে মস্তিষ্ক তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে না। ফলে ভুলে যাওয়া বাড়ে।
বয়সজনিত পরিবর্তন: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কিছুটা কমে যাওয়া স্বাভাবিক।ডিপ্রেশন ও উদ্বেগ: মানসিক রোগ থাকলে মনোযোগ কমে যায়, ফলে মনে রাখার ক্ষমতাও কমে।
ভিটামিনের ঘাটতি: বিশেষ করে ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি ও আয়রনের অভাব স্মৃতিভ্রংশের কারণ হতে পারে। থাইরয়েড সমস্যা: থাইরয়েড হরমোন কম বা বেশি হলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ঘুমের ওষুধ, ডিপ্রেশনের ওষুধ, ব্যথানাশক কিছু ক্ষেত্রে স্মৃতি দুর্বল করে।
মস্তিষ্কের রোগ: স্ট্রোক, মাথায় আঘাত, টিউমার বা আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়া গুরুতর কারণ হতে পারে।
ভুলে যাওয়ার রোগ মূলত পরিচিত মানুষের নাম ভুলে যাওয়া; বারবার একই কথা বলা; দৈনন্দিন কাজ করতে সমস্যা হওয়া; জায়গা বা সময় নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া ইত্যাদি। এ জন্য দরকার সচেতনতা ও সতর্কতা। তা হলো নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো; পুষ্টিকর খাবার খাওয়া (শাকসবজি, মাছ, বাদাম); বই পড়া, ধাঁধা, নতুন কিছু শেখা; স্ট্রেস কমানো ও নিয়মিত হাঁটা।
লেখক: সাংবাদিক
কেএমএএ/আপ্র