হলিউডের সিনেমা ও টেলিভিশনে সম্পর্কের প্রচলিত চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বয়সে বড় পুরুষ ও কমবয়সী নারীর সম্পর্ক যেখানে পরিচিত গল্প ছিল, সেখানে এখন বয়সে বড় নারী ও কমবয়সী পুরুষের সম্পর্কও ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে। শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও এমন সম্পর্কের উপস্থিতি বাড়ছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যানে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিকেও এ ধরনের সম্পর্কের গল্প উঠে এসেছে। ‘দ্য আইডিয়া অব ইউ’, ‘বেবিগার্ল’, ‘ড্রিমস’, ‘ভ্লাদিমির’ এবং ‘ব্রিজেট জোন্স: ম্যাড অ্যাবাউট দ্য বয়’—এসব বয়সের ব্যবধান থাকা সম্পর্ককে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে বিষয়টি হলিউডে একেবারে নতুন নয়। ১৯৬৭ সালের ‘দ্য গ্র্যাজুয়েট’ সিনেমার মিসেস রবিনসন চরিত্র কিংবা পরবর্তী সময়ে ‘আমেরিকান পাই’-এর ‘স্টিফলারের মা’ চরিত্রও বয়সে বড় নারীর সঙ্গে কমবয়সী পুরুষের সম্পর্ককে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে আলোচনায় এনেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যানেও বয়সের ব্যবধান থাকা সম্পর্কের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৩ সালে অবিবাহিত কিন্তু একসঙ্গে বসবাসকারী বিষমকামী দম্পতিদের প্রায় ২২ শতাংশের ক্ষেত্রে নারী ছিলেন পুরুষের চেয়ে বয়সে বড়। ১৯৯৫ সালে এ হার ছিল ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
এ ছাড়া একটি জনপ্রিয় ডেটিং সেবার গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অবিবাহিত পুরুষদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তাদের চেয়ে অন্তত ১০ বছর বয়সে বড় নারীর সঙ্গে সম্পর্কে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
আরেকটি ডেটিং প্ল্যাটফর্মের তথ্যেও একই ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সেখানে বয়সে বড় নারীর সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজছেন এমন পুরুষদের মধ্যে তরুণদের অংশ আগের তুলনায় বেড়েছে।
কেন বাড়ছে এই প্রবণতা
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, নারীর শিক্ষা ও কর্মজীবনে অগ্রগতি এবং সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত ধারণার পরিবর্তনসহ বেশ কিছু কারণ কাজ করছে।
বিনোদন জগতের তারকারাও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছেন। বয়সের উল্লেখযোগ্য ব্যবধান থাকা কয়েকটি তারকা-সম্পর্ক অতীতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে বয়সে বড় নারী তারকাদের কমবয়সী পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কও আগের তুলনায় বেশি স্বাভাবিকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
গবেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, নারী-পুরুষের শিক্ষাগত ও পেশাগত অবস্থানের পরিবর্তনও সম্পর্কের প্রচলিত কাঠামোকে প্রভাবিত করছে। অনেক সমাজে নারীরা এখন আগের তুলনায় বেশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন এবং নিজেদের পছন্দ ও জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছেন।
হলিউডের সাম্প্রতিক গল্পগুলোতে বয়সের ব্যবধান থাকা সম্পর্ককে শুধু প্রেমের গল্প হিসেবে দেখানো হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে এসব সম্পর্কের মধ্য দিয়ে আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিগত পরিবর্তন এবং জীবনের নতুন সম্ভাবনার বিষয়ও তুলে ধরা হচ্ছে।
অর্থাৎ বয়সে বড় নারী ও কমবয়সী পুরুষের সম্পর্ক এখন শুধু প্রচলিত গল্পের বিপরীত একটি চিত্র নয়; বরং পরিবর্তিত সামাজিক মূল্যবোধ ও সম্পর্কের ধারণার প্রতিফলন হিসেবেও জায়গা করে নিচ্ছে।
তবে গবেষণার তথ্য বলছে, এমন সম্পর্কের উপস্থিতি বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদি বিবাহ বা পারিবারিক সম্পর্কে বয়সের এই ব্যবধান এখনো তুলনামূলকভাবে কম। ফলে হলিউডের পর্দায় যে প্রবণতা দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে, বাস্তব জীবনে তার বিস্তার এখনো একই মাত্রায় পৌঁছায়নি।
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
এসি/আপ্র/০৯/০৮/২০২৬