বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার চার নম্বর আসামি খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হক। গত বছরের ২১ অক্টোবর মামলার পর আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে যেতে চেয়েছিলেন সৌদি আরবে ওমরাহ করার জন্য। তবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সময় ধরা পড়েন তিনি।
এরপর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। খবর দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। তারা এসে বিমানবন্দর থেকে ডনকে নিয়ে যায়।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
ডন গ্রেফতারের পর সালমান শাহ হত্যা মামলার কোনো অগ্রগতি হবে কি না- জানতে চাইলে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে মামলাটি সিআইডি অধিকতর তদন্ত করছে। নিশ্চয় মামলার অগ্রগতি হবে।
জানা গেছে, গত বছর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। সে সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে একটি রিকুইজিশন পাঠিয়ে এজাহারে নাম থাকা আসামিদের দেশত্যাগে বাধা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালত হত্যা মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন গত বছর। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন।
পুরোনো নথি থেকে দেখা যায়, একাধিক তদন্ত সংস্থার হাত ঘুরে সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি প্রতিবেদন দেয়, সালমান শাহের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত। তবে তার পরিবার ও ভক্তরা তা মানতে পারেননি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জল্পনা চললেও তদন্তের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।
এসি/আপ্র/০৯/০৮/২০২৬