সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের শিক্ষক বিউটি রানী পাল ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের সঙ্গে একটি রিল তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন। শুরুতে সমালোচনার মুখে পড়লেও পরে দেশজুড়ে শিক্ষক ও সচেতন মহলের সমর্থন পান তিনি। এবার তার প্রশংসা করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ বিউটি রানী পালকে সংস্কৃতিমনা শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি নিজের স্কুলজীবনের স্মৃতিও তুলে ধরেন।
আসিফ লেখেন, কুমিল্লার গুলবাগিচা স্কুলের প্রয়াত সাংস্কৃতিক শিক্ষিকা কল্যাণী সেন গুপ্তার উৎসাহেই তিনি আবৃত্তি, নাটক, সংগীতসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। এমনকি মিলাদ পরিচালনার প্রশিক্ষণও পেয়েছিলেন তার কাছ থেকে। ওই শিক্ষিকার শাসন ও অনুপ্রেরণাই তাকে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংগীতশিল্পীর ভাষ্য, শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু পাঠ্যবই পড়ানো নয়, শিক্ষার্থীদের মনন ও মূল্যবোধ গড়ে তোলাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বলেন, স্বদেশীয় সংস্কৃতি মানুষকে সংযম ও সৌন্দর্যবোধ শেখায়, উগ্রতা নয়।
বিউটি রানী পাল সম্পর্কে আসিফ লেখেন, তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা শিক্ষক, যিনি আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। জনপ্রিয় একটি গানের সঙ্গে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা তার ব্যক্তিগত অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কারণে মানুষ অস্থিরতার মধ্যে থাকলেও কাউকে অযথা লক্ষ্য করে ‘ব্লাইন্ড গেম’ খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন এই সংগীতশিল্পী।
পোস্টে তিনি আরো দাবি করেন, কিছু মন্ত্রী স্কুলে সাংস্কৃতিক শিক্ষক নিয়োগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের সুস্থ বিকাশে শিক্ষা ও শৃঙ্খলার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতিচর্চারও সমান গুরুত্ব রয়েছে।
পোস্টের শেষে বিউটি রানী পালকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে আসিফ বলেন, আনন্দময় ও সংস্কৃতিমনস্ক পরিবেশেই নতুন প্রজন্মের বিকাশ হওয়া উচিত।
এর আগে একই ঘটনায় ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের মূল শিল্পী মেসবা রহমানও শিক্ষক বিউটি রানী পালের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।
এসি/আপ্র/২৯/০৭/২০২৬