বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জ পৌর শহরের চাঁদকুঠি গ্রামে গৃহবধূর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ফুলবাবু নামের এক যুবককে আটকের পর তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে আটক গৃহবধূকে পরদিন থানায় সমঝোতার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আটক যুবকের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে চাঁদকুঠি গ্রামের একটি বাড়িতে গৃহবধূর সঙ্গে ফুলবাবুকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেন স্থানীয়রা। পরে উত্তেজিত জনতা দুজনকে একই রশিতে বেঁধে মধ্যরাত পর্যন্ত আটকে রাখে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূ ও ফুলবাবুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সোমবার সারাদিন দুজনকে থানায় রাখার পর সন্ধ্যায় গৃহবধূকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ফুলবাবুকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আদালত চত্বরে ফুলবাবুর বাবা মনজুরুল ইসলাম এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যদি ওই গৃহবধূ নির্দোষই হন, তাহলে গ্রামবাসী কেন দুজনকে একই রশিতে বেঁধে রাখল এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল? তার দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত ও সাজানো। থানায় গৃহবধূকে ছেড়ে দেওয়ার সময় গ্রামবাসীর নীরবতাও এ ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাঁদকুঠি এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ওই গৃহবধূ নিজেই ফুলবাবুকে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে আটকের ঘটনা ঘটান এবং পরে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। তাদের দাবি, দরকষাকষিতে ফুলবাবুর পক্ষ রাজি না হওয়ায় পুলিশ ডেকে দুজনকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে থানায় লেনদেনের মাধ্যমে গৃহবধূকে মামলার বাদী বানিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ দাবি করেন, ওই গৃহবধূর বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি সঠিকভাবে তদন্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান জাহিদ সরকার বলেন, আটক যুবকের নামে আগে একটি মামলা ছিল। নতুন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে আটক গৃহবধূকে একই মামলায় বাদী বানিয়ে থানায় থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সানা/আপ্র/২৩/৯/২০২৬