এরকমও বলেছে যে, ‘আমাদের নাক কাটার পাউডার দিয়ে তো তোমার ফেস পাউডার হবে। আমিও হাসতে হাসতে বলেছিলাম, ‘আরো একটু ফেস পাউডার মিক্স করতে হবে।”
নারী সহকর্মীরা গায়ের রং নিয়ে এভাবেই কটাক্ষ করেছেন বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল।
যারা বডি শেমিং করছেন, তারা ‘মানসিকভাবে বন্দি’ বলে মন্তব্য করেছেন সুনেরাহ।
‘এটা আমাদেরই গল্প’ খ্যাত এই অভিনেত্রী অভিনেত্রীর কথায়, ‘এটা ভীষণ অবাক করা ব্যাপার। যারা এমন মন্তব্য করেন, তারা যে ভালো কিছু দেখেনি, ভালো কিছু করেনি, তারা যে মানসিকভাবে ছোট্ট একটি জায়গার মধ্যে বন্দি, তা বোঝা যায়। আমি কিন্তু এসব কথা শুনে মাইন্ড করিনি; বরং আমার হাসি পেয়েছে।’
সামাজিকমাধ্যমেও শরীরের রং নিয়ে কটাক্ষের শিকার হয়েছেন সুনেরাহ। একটি ঘটনা স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “কয়েক দিন আগে আমার ছবিতে একজন ‘কালো’ বলে মন্তব্য করেছেন। পাল্টা মন্তব্যে আমি লিখি, ‘কালো হলে কী সমস্যা।’
পরে দেখি ওই লোক কমেন্ট ডিলিট করে দিয়েছেন। কেন ডিলিট করলেন, তা জানি না। আসলে সব মানুষ তো আর এক কালারের হবে না। সবাই যদি একই হয়ে যায়, তবে মানুষ দেখতে কীভাবে আলাদা হবে!”
তবে ‘কালো’ বলে কটাক্ষ করায় একসময় মন খারাপ করতেন সুনেরাহ। তার কথায়, “অনেকেরই কালো চামড়ার মানুষ পছন্দ না। তারা এটাকে এপ্রিশিয়েট করেন না।
স্কুলের বাইরে আমার কোনো লাইফ ছিল না। আমি যে স্কুলে পড়তাম, যারা আমার বন্ধু বা পরিবার ছিল, তাদের কাছ থেকে কখনো শুনিনি- ‘কালো মানুষ সুন্দর না।’ আমি যখন কাজ শুরু করি, তখন দর্শকদের অনেকে অনেক কথা বলেছেন।
সামাজিকমাধ্যমে অনেক মন্তব্য দেখি। কেউ কেউ লিখেতেন ‘এটা আবার কেমন নায়িকা, উনার গায়ের রং তো কালো।’ এসব মন্তব্য দেখে, মাঝে মাঝে মন খারাপ হতো।”
‘ন ডরাই’ সিনেমার মাধ্যমে সিনেমায় অভিষেক হওয়া এই নায়িকা বর্তমানে নেতিবাচক বিষয় এড়িয়ে চলেন।
সুনেরাহ বলেন, ‘নেগেটিভ জায়গাগুলো সবসময়ই এড়িয়ে চলি। অভিনয় খুব বেশি ভালো না পারলেও চেষ্টা করি। তবে অনেকে আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেন আর এসব মন্তব্য আমাকে ইতিবাচকভাবে মোটিভেট করে। এসব নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।’
ডিসি/আপ্র/১৪/০৫/২০২৬