সোমবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানি। পোস্টটির সঙ্গে একটি ছবি যুক্ত করে তিনি কার্যত নেটিজেনদের ছুড়ে দিয়েছেন প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন কি না, তার প্রমাণ দেখানোর জন্য। আর সেই চ্যালেঞ্জের সামনেই নেটিজেনরা তুলে এনেছেন তার স্ত্রীর রাজনৈতিক অবস্থান। তার স্ত্রী নায়িকা মৌসুমী আওয়ামী লীগের এমপি হতে চেয়েছিলেন। ছেলেকে নিয়ে তিনি মনোনয়নপত্র কিনতে গিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রচারণায় শোবিজ অঙ্গনের একাধিক পরিচিত মুখ যুক্ত হয়েছেন। সেখানে ছিলেন মনির খান, রবি চৌধুরী, নায়িকা শিমলাসহ অনেকে। তারা প্রকাশ্যেই ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। কিন্তু অতীতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ছিলেন, এমন অভিযোগে এসব তারকার অনেকেই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের মুখে পড়ছেন।
এই প্রেক্ষাপটে ওমর সানির পোস্টকে দেখা হচ্ছে আত্মপক্ষ সমর্থনের পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা হিসেবে। কারণ, তার আগে থেকেই শোবিজ অঙ্গনে আলোচনা চলছিল আওয়ামী লীগ আমলে সুবিধাভোগী ছিলেন এমন শিল্পীরা হঠাৎ করেই ধানের শীষে ভোট চাইছেন।
বিশেষ করে নায়িকা শিমলার ঘটনা সেই বিতর্ককে আরো উসকে দিয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। সেই তিনি এখন আবার ধানের শীষের জন্য ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি খুবই ভাইরাল হয়েছে। একদিকে বিএনপিকে তারা এইসব বর্ণচোরা শিল্পীদের থেকে সাবধান হতে বলছেন অন্যদিকে শিল্পীদের দায়বোধ, লয়ালিটি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।
তারই প্রেক্ষিতে ওমর সানি পোস্টটি দিয়েছেন বলে ধারণা। পোস্টে মাত্র ১৩ ঘণ্টায় প্রায় ২৯ হাজারের বেশি রিয়েক্ট পড়ে এবং মন্তব্য জমা হয় প্রায় ৪ হাজার। তবে প্রতিক্রিয়াগুলো একমুখী ছিল না। অনেক নেটিজেন সরাসরি তাকে আওয়ামী লীগের দোসর বলে আখ্যা দেন। কেউ কেউ তার অতীত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় আরেকটি প্রসঙ্গ। ওমর সানির স্ত্রী জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আগ্রহী ছিলেন। নেটিজেনদের একাংশ মনে করিয়ে দেন, মৌসুমী এক সময় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য মনোনয়ন চেয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন।
এরপর ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি মৌসুমী মনোনয়নপত্র কিনতে যান আওয়ামী লীগ অফিস থেকে। মনোনয়ন ফরম কিনতে সেদিন বুধবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান। এ সময় মৌসুমীকে ঘিরে সেলফি তোলার হিড়িক পড়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ মৌসুমীকে মনোনয়ন দেয়নি।
২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি ছেলে ফারদিনকে নিয়ে নৌকার মনোনয়নপত্র কিনতে যান মৌসুমী
মৌসুমী বর্তমানে কোনো দলের রাজনীতিতেই সক্রিয় নন। তিনি আমেরিকায় বসবাস করছেন দীর্ঘদিন ধরে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের শেষ সময়ে শোবিজ তারকাদের প্রকাশ্য অবস্থান ভোটের রাজনীতির পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। এতে একদিকে যেমন প্রচারণা জোরদার হচ্ছে, অন্যদিকে অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে শিল্পীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
কেউ কেউ বলছেন, একজন নাগরিক তার রাজনৈতিক চর্চার সব স্বাধীনতাই রাখেন। দল পরিবর্তন বা নেতৃত্ব বদলে নেওয়াও গণতান্ত্রিক ধারার একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি, কোনো চ্যালেঞ্জ কিংবা দ্বিচারি বক্তব্য ও আচরণ কাম্য নয়।
এসি/১০/২/২০২৬