আবু তাহের, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: শীত শেষ হয়ে বসন্ত আসে। চারদিকে তখন রঙের মেলা, পাখির ডাক আর ফুলের সুন্দর গন্ধ। শীতের নীরব প্রকৃতিকে বিদায় জানিয়ে বসন্ত নতুন প্রাণ নিয়ে আসে। এই সময়ে গাছে নতুন পাতা গজায় এবং নানা রঙের ফুল ফুটে ওঠে। বসন্তের ছোঁয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও হয়ে ওঠে বর্ণিল ও প্রাণবন্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় বসন্তের বার্তা নিয়ে ফুটে আছে নানা রঙের ফুল। রাস্তার ধারে, মাঠের পাশে, প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের সামনে, আবাসিক হল, লাইব্রেরি, মসজিদ ও মন্দিরের আশপাশে ফুলে ফুলে সাজানো ক্যাম্পাস যেন এক অন্য রূপ নেয়। বিশেষ করে সূর্যমুখীর উজ্জ্বল হলুদ রং দূর থেকেই চোখে পড়ে। এছাড়া গাঁদা, জাম্বু গাঁদা, পিটুনিয়া, ভারবিনা, দেশি সিলভিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, ডায়ান্থাস ও মোরগঝুঁটির মতো বিভিন্ন ফুল ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বসন্তের সময় শুধু গাছপালাই নয়, পশু-পাখির মধ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। ক্যাম্পাসের গাছে গাছে দোয়েল, শালিক, টুনটুনি সহ নানা পাখি বসে থাকে। তাদের ডাক আর শিক্ষার্থীদের হাসি-আনন্দ মিলিয়ে চারদিকে এক সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়। প্রজাপতির উড়াউড়ি, মৌমাছির গুঞ্জন আর ফুলের গন্ধ প্রকৃতিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
বসন্তের ফুলে সাজানো ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের মনেও ভালো লাগা তৈরি করে। পড়াশোনার ব্যস্ততার মাঝে এই সুন্দর পরিবেশ অনেকটাই স্বস্তি দেয়। প্রতি বছর বসন্ত এসে ক্যাম্পাসকে নতুন রঙে সাজিয়ে যায়। বসন্তের এই সৌন্দর্য শিক্ষার্থীদের মনে সুন্দর স্মৃতি হয়ে থেকে যায়।
এই সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যও দেখা যায়। কেউ ফুলের সঙ্গে ছবি তোলে, আবার কেউ বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেয়। খোলা জায়গায় গান, কবিতা আবৃত্তি কিংবা রমজানের ইফতার আয়োজনও হয়। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, অনেক দর্শনার্থীও বন্ধু ও পরিবার নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসেন। তারা ফুলের সঙ্গে ছবি তুলে সেই মুহূর্তগুলো স্মৃতি হিসেবে রেখে দেন।
শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা, ক্লাসের তাড়া, পরীক্ষা আর নানান কর্মকাণ্ডের ভিড়ে আমরা অনেক সময় চারপাশের ছোট ছোট সৌন্দর্যগুলো খেয়ালই করি না। অথচ প্রশাসনিক ভবনের পাশেই নীরবে ফুটে থাকে কিছু ফুল, যাদের সৌন্দর্য প্রতিদিন ক্যাম্পাসকে অন্যরকম কোমলতা দিয়ে সাজিয়ে তোলে। ক্যাম্পাসে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। কেউ হয়তো লক্ষ্য করে, কেউ আবার ব্যস্ততায় চোখ এড়িয়ে চলে যায়। কিন্তু যারা একবার থেমে সেই ফুলগুলোর দিকে তাকায়, তারা বুঝতে পারে-এই ছোট্ট সৌন্দর্যই ক্যাম্পাস জীবনের এক নীরব আনন্দ। প্রশাসনিক ভবনের পাশের এই ফুলগুলো শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়, বরং মনে করিয়ে দেয়-জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও একটু থামা দরকার, একটু সৌন্দর্য অনুভব করা দরকার।’
সানা/আপ্র/১৫/৩/২০২৬