গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

পদ্মার বুকে উন্নয়নের মহাসংকল্প, দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তার এখনই পরীক্ষার সময়

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ০৯:০৪ পিএম, ১৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৫:০৫ এএম ২০২৬
পদ্মার বুকে উন্নয়নের মহাসংকল্প, দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তার এখনই পরীক্ষার সময়
ছবি

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের নকশা- ফাইল ছবি

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বহু দশক ধরে এক নীরব পরিবেশগত বিপর্যয়ের ভার বহন করে চলেছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রাণশক্তি হারানো, লবণাক্ততার নির্মম বিস্তার, কৃষির উৎপাদনশীলতা হ্রাস, জলাবদ্ধতা এবং ভূগর্ভস্থ পানির বিপজ্জনক অবনমন-সব মিলিয়ে এ অঞ্চল ক্রমেই এক বহুমাত্রিক সংকটের দিকে ধাবিত হয়েছে। এমন বাস্তবতায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অনুমোদন নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ। প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার এ মহাপরিকল্পনা শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নয়; এটি পানি, পরিবেশ, কৃষি ও আঞ্চলিক অর্থনীতিকে ঘিরে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও টেকসই ভবিষ্যতের প্রশ্ন।

রাজবাড়ীর পাংশা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর নির্মিতব্য ব্যারেজের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ, খাল ও ক্যানেলের সাহায্যে কৃষিজমিতে সেচ সরবরাহ, নদীর নাব্য পুনরুদ্ধার, সুন্দরবনে স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের যে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সুদূরপ্রসারী। বিশেষত হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি ও চন্দনা-বারাশিয়ার মতো মৃতপ্রায় নদী ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ দেশের নদীনির্ভর সভ্যতার জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করে। একই সঙ্গে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা প্রকল্পটিকে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বারেও উন্নীত করেছে।

তবে এত বিশাল ব্যয়ের প্রকল্পের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, সর্বাগ্রে প্রয়োজন কঠোর বাস্তবতা, বৈজ্ঞানিক দক্ষতা ও স্বচ্ছ রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি। বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাসে বহু প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি, দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্বল তদারকির কারণে জনআস্থাকে ক্ষুণ্ন করেছে। ফলে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি দক্ষ কারিগরি ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-আন্তঃদেশীয় নদী ব্যবস্থাপনা। ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব মোকাবিলাই যেহেতু এ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য, তাই কেবল অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট হবে না। প্রয়োজন কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও কার্যকর আঞ্চলিক পানি-রাজনীতি। আন্তঃসীমান্ত নদীর ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পের কাঙিক্ষত সুফল অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ফলে এ উদ্যোগকে শুধু উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং জাতীয় পানি-নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে।

এ প্রকল্প অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার একটি উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন-বার্তা দিয়েছে। কিন্তু উন্নয়নের প্রকৃত সাফল্য কেবল ব্যয় বা অবকাঠামোর আকারে নির্ধারিত হয় না; তা নির্ধারিত হয় মানুষের জীবনমান, পরিবেশের স্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার মাধ্যমে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের পানিবঞ্চনা, কৃষি সংকট ও পরিবেশগত দুর্ভোগ যদি সত্যিই লাঘব করা যায়, তবে পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে উঠবে।

অতএব এখন রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, প্রয়োজন দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়কত্ব; আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জৌলুস নয়, বাস্তবায়নের সততা। পদ্মার বুকে যে মহাসংকল্পের সূচনা হয়েছে, তা যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আশীর্বাদে পরিণত হয়-এ দায় রাষ্ট্রের, সরকারের এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের। 
সানা/আপ্র/১৬/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

সংবাদকে বিশ্বদুয়ারে পৌঁছে দেওয়া এক নির্ভীক সম্পাদকের বিদায়
০৪ অক্টোবর ২০২৬

সংবাদকে বিশ্বদুয়ারে পৌঁছে দেওয়া এক নির্ভীক সম্পাদকের বিদায়

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা আবারো হারালো এমন এক মানুষকে, যাঁর কর্মজীবন শুধু একটি সংবাদমাধ্যমের সাফল্যের ইত...

মানবাধিকারের আয়নায় সেপ্টেম্বরের নির্মম বাংলাদেশ
০৩ অক্টোবর ২০২৬

মানবাধিকারের আয়নায় সেপ্টেম্বরের নির্মম বাংলাদেশ

সেপ্টেম্বরের মানবাধিকার পরিস্থিতির দুটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন শুধু উদ্বেগের তথ্য দেয়নি, রাষ্ট্র ও সমা...

গণপরিবহনে স্বাধীন পোশাকে হস্তক্ষেপ বন্ধ প্রয়োজন
০১ অক্টোবর ২০২৬

গণপরিবহনে স্বাধীন পোশাকে হস্তক্ষেপ বন্ধ প্রয়োজন

মেট্রোরেলে অ্যাথলেটকে হেনস্তা

প্রতিরোধযোগ্য হামে হাজার প্রাণহানির দায় কার
০১ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিরোধযোগ্য হামে হাজার প্রাণহানির দায় কার

হাম নিয়ন্ত্রণে টিকা আছে, প্রতিরোধের কার্যকর কৌশল আছে, বিশ্বজুড়ে পরীক্ষিত জনস্বাস্থ্যব্যবস্থাও আছে। ত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

আদালতে হেলমেট ছুড়ে আখতারুজ্জামান বললেন, কেন পরব

রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে নেওয়ার সময় মাথা থেকে হেলমেট খুলে ছুড়ে ফেলেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন। শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রিয় পাঠক আপনি কি মনে করেন তিনি সঠিক প্রশ্ন করেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে