রাজধানীর গুলশানে ‘শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক’-এর নাম পরিবর্তন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও বিভ্রান্তি। পার্কটির নতুন সাইনবোর্ডে ‘গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স’ লেখা দেখা যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা, পাশাপাশি নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য উঠেছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন দাবি করেছে, ২০২০ সালে নিয়ম মেনেই পার্কটির নাম পরিবর্তন করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের নামে নামকরণ করা হয়েছিল এবং সেই নামই এখনো সরকারি রেকর্ডে বহাল আছে। অন্যদিকে রাজউকের দাবি, পার্কটির মূল নাম ছিল ‘গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক’ এবং এখনো সেটিই নথিভুক্ত নাম হিসেবে রয়েছে। তাদের ভাষ্য, পার্কটি উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হলেও নাম পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত তাদের জানা নেই।
গত বুধবার (১৩ মে) পার্কে গিয়ে দেখা যায়, তাজউদ্দীন আহমদের নামে থাকা একাধিক সাইনবোর্ড খুলে ফেলা হয়েছে এবং নতুন সাইনবোর্ডে ‘গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স’ নাম ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে পরিচালনাকারী হিসেবে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব লিমিটেডের নামও উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।
ঢাকা উত্তর সিটির প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, নামকরণ প্রক্রিয়া স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদনসহ ২০২০ সালে সম্পন্ন হয়। তবে রাজউক দাবি করেছে, তারা কোনো নতুন নাম পরিবর্তনের অনুমোদন দেয়নি এবং বিষয়টি তাদের নথিতেও প্রতিফলিত হয়নি।
অন্যদিকে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বিষয়টিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পার্কটি ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে দেওয়া হলেও চুক্তি লঙ্ঘনের কারণে পরে বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে।
পার্ক পরিচালনায় থাকা গুলশান ইয়ুথ ক্লাবও নাম পরিবর্তনের বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। ক্লাব সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান তমাল জানান, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন, তবে ক্লাবের সংশ্লিষ্ট অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, রাজউকের অনুমতিতেই নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে সোহেল তাজ এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, জাতীয় নেতাদের স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা ইতিহাসের প্রতি অবমাননা। তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী তাজউদ্দীন আহমদের নাম কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে এ ধরনের বিষয়ে আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।
পার্কটির ইতিহাস অনুযায়ী, গুলশান মডেল টাউনের ৮ দশমিক ৮৭ একর আয়তনের এ পার্কটি দীর্ঘদিন ‘গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক’ নামে পরিচিত ছিল। পরে সংস্কার ও উন্নয়নের পর ২০২০ সালে এটিকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক নামে নামকরণ করা হয়। তবে ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে চুক্তি ও দায়িত্ব হস্তান্তরের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এ পার্ক ঘিরে বিতর্ক চলছিল।
সানা/আপ্র/১৬/৫/২০২৬