গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

স্বামীকে হত্যার পর টুকরো ‍করে ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর

প্রকাশিত: ০৯:৪০ পিএম, ১৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ০৮:৫০ এএম ২০২৬
স্বামীকে হত্যার পর টুকরো ‍করে ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পরে শরীরের হাড়ের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে মাংস ফ্রিজে রাখতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহে ধরা পড়েন তিনি।

গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতের এ ঘটনা জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা আক্তার তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এরপর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে আসমা মরদেহটি ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন। হাড়গুলো একটি ড্রামে ভরে বাসায় রেখে দেন প্রায় তিন দিন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। এরপরে মাংসগুলো তিনি শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার তার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখতে চান। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। একইদিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও নিহতের চারটি হাত-পা উদ্ধার করা হয়।

নিহতের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালে ওই নারীকে বিয়ে করেন। দেশে এসে আলাদা বাসায় থাকতেন। আমরা খবর পেয়ে এসে দেখি, সত্যিই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

সদর পালং মডেল থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখে ওই নারী। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এসি/আপ্র/১৬/০৫/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

লক্ষ্মীপুরে ছয় বালুর গদিতে হামলা-লুটপাট, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
২৬ অক্টোবর ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে ছয় বালুর গদিতে হামলা-লুটপাট, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার মৌজুচৌধুরীর হাটে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট মালিকানাধীন ছয়টি বালুর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠ...

পাকুন্দিয়ায় ১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার শুরু
২৬ অক্টোবর ২০২৬

পাকুন্দিয়ায় ১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার শুরু

মো. রেজুয়ানুল হক, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পাকুন্দি...

টঙ্গীতে মূকাভিনয় শিল্পী দেওয়ান মামুনকে নিয়ে ‘ভাব, আবেগ’ শীর্ষক আড্ডা
২৬ অক্টোবর ২০২৬

টঙ্গীতে মূকাভিনয় শিল্পী দেওয়ান মামুনকে নিয়ে ‘ভাব, আবেগ’ শীর্ষক আড্ডা

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীতে মূকাভিনয় শিল্পের চর্চা, বিকাশ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এর গু...

টাঙ্গাইলে রাজস্ব ও সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
২৬ অক্টোবর ২০২৬

টাঙ্গাইলে রাজস্ব ও সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

মো. আকরাম হোসেন, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সরকারি সম্পত্ত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 20 ঘন্টা আগে