গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মেনু

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে বড় জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৩৪ পিএম, ১০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০৩:২৪ এএম ২০২৬
শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে বড় জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা
ছবি

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী -ছবি সংগৃহীত

শেয়ারবাজারে অনিয়ম, কারসাজি ও বিতর্কিত লেনদেনের ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ হাজার ৪৯৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের ওপর আজীবন ও মেয়াদভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুনর্গঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বারোটি আলোচিত বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত চালায়। এসব তদন্তের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি কিছু বিষয় দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, তদন্তে সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে আজীবন পুঁজিবাজার–সম্পর্কিত সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাবেক কমিশনার শামসুদ্দিন আহমেদকে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল ইস্তিসনা বন্ড সংক্রান্ত তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে আজীবন নিষিদ্ধের পাশাপাশি ১০০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা ও ৫০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

আইএফআইসি ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়মের ঘটনায় আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরওয়ারকে পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টের সাবেক প্রধান নির্বাহী ইমরান আহমেদকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড সংক্রান্ত তদন্তে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেডের মিউচ্যুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছে এবং কোম্পানির প্রধান নির্বাহী রিয়াজ ইসলামকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ফরচুন শুজ লিমিটেড সংক্রান্ত তদন্তে আইসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সমবায় অধিদপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবুল খায়ের হিরুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, রিং শাইন টেক্সটাইলস, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ ও এবিজি লিমিটেড সংক্রান্ত তদন্ত এখনো কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিও সংক্রান্ত তদন্ত আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে স্থগিত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, আল-আমিন কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ, এমেরাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ ও সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলসের বিষয়ে শুনানি ও পুনঃশুনানির প্রক্রিয়া চলছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দুই বছরে শেয়ারবাজারে ১১৪টি অনুসন্ধান, ১২টি তদন্ত, ৬৪টি পরিদর্শন এবং ৬৭৫টি এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বাজার কারসাজির ঘটনায় বেক্সিমকো লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানাও আরোপ করা হয়েছে।

তবে সংসদে দেওয়া তথ্যে এসব জরিমানার কত অংশ আদায় হয়েছে, কতগুলো সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা কোনো প্রতিকার পেয়েছেন কি না-সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
সানা/আপ্র/১০/৬/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

তীব্র তারল্য সংকট নিরসনে তহবিল চাইলো ইসলামী ব্যাংক
০৯ জুন ২০২৬

তীব্র তারল্য সংকট নিরসনে তহবিল চাইলো ইসলামী ব্যাংক

দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে গভীর তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে...

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী
০৯ জুন ২০২৬

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

একনেক সভায় ১০ প্রকল্প অনুমোদন

পে-স্কেল নিয়ে বড় সুখবর
০৯ জুন ২০২৬

পে-স্কেল নিয়ে বড় সুখবর

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রথম ধাপের বরাদ্দ থাকছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত...

দেশীয় শিল্পে কর রেয়াত, ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম কমবে
০৯ জুন ২০২৬

দেশীয় শিল্পে কর রেয়াত, ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম কমবে

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশীয় শিল্পের বিকাশে ব্যাপক কর রেয়াত ও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেদনের ভিত্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে টিআইবির প্রতিক্রিয়া

টিআইবির প্রতিবেদন শুধু পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে প্রণীত হয়-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, গবেষণা প্রতিবেদনকে ঢালাওভাবে পত্রিকার কাটিং-নির্ভর বলা মূল বিষয়কে পাশ কাটানোর ব্যর্থ প্রয়াস ছাড়া কিছু নয়। আপনি কি মনে করেন যে, টিআইবির এই বিবৃতি যৌক্তিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 49 মিনিট আগে