তারেক মাহমুদ: আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা প্রায় দুই বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। ২০২৪ সালের আগস্টের আন্দোলনের সময় ভাঙচুর ও চুরির ঘটনায় অধিকাংশ ক্যামেরা নষ্ট হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তা পুনঃস্থাপনে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, পাশাপাশি অপরাধ তদন্তে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে পুলিশ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মোড়ে একসময় স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরার জায়গায় এখন পড়ে আছে শুধু খুঁটি, ভাঙা ক্যামেরার বক্স কিংবা ঝুলে থাকা তার। অনেক স্থানে ক্যামেরার কোনো চিহ্নই নেই। দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা এসব ক্যামেরা মেরামত বা নতুন করে স্থাপনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সহযোগিতায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনবহুল এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে শহরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অপরাধের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা পাওয়া যেত।
কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখত। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টের আন্দোলনের সময় দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরে অধিকাংশ ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু ক্যামেরা চুরি হয়ে যায়। এরপর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর সচল হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সিসিটিভি নজরদারি না থাকায় চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধের ঝুঁকি বেড়েছে। কোনো ঘটনা ঘটলে অপরাধীদের শনাক্ত করতেও আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। তারা দ্রুত শহরজুড়ে আধুনিক সিসিটিভি ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির (সুজন) সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, “সিসিটিভি ক্যামেরা শুধু অপরাধী শনাক্ত করার মাধ্যম নয়, এটি অপরাধ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারি সম্পদ ধ্বংসের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক সম্রাট খীসা বলেন, “আন্দোলনের সময় সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত এগুলো পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, “সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকলে অপরাধ দমন ও তদন্ত কার্যক্রম অনেক সহজ হয়। বর্তমানে ক্যামেরাগুলো অচল থাকায় অপরাধী শনাক্তে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পুলিশ আবারো মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে।”
নগরবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্রুত লক্ষ্মীপুর শহরের সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হবে। তাদের মতে, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নিরাপত্তা নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থাও বাড়বে।
সানা/আপ্র/২৭/৭/২০২৬