গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

মেনু

চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ফল, গম, আলুসহ অন্তত ২৮টি কৃষি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে

নিত্যপণ্যে উৎসে কর দ্বিগুণের ভাবনা সরকারের

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:২৭ পিএম, ১৫ মে ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৯ এএম ২০২৬
নিত্যপণ্যে উৎসে কর দ্বিগুণের ভাবনা সরকারের
ছবি

ছবি সংগৃহীত

রাজস্ব আদায়ের চাপ সামাল দিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ফল, গম, আলুসহ অন্তত ২৮টি কৃষি ও খাদ্যপণ্যের স্থানীয় সরবরাহে উৎসে করের হার বর্তমান শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে এই প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন মিললে প্রস্তাবটি জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

এনবিআরের প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ভুট্টা, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনি, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা, খেজুর ও সব ধরনের ফল। পাশাপাশি ধানের কুড়া, বীজ, সরিষা, তিল, কাঁচা চা-পাতা, পাটকাঠি ও পাটজাত পণ্যও এই কর বৃদ্ধির আওতায় আসতে পারে।

এনবিআর সূত্র বলছে, আগামী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দা, আমদানি কমে যাওয়া এবং সীমিত করজালের কারণে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর করের চাপ বাড়িয়েই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সরবরাহ পর্যায়ে কার্যকরভাবে কর আদায় নিশ্চিত করা গেলে শুধু এই খাত থেকেই বছরে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব।

বর্তমান ব্যবস্থায় করপোরেট প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য কিনলে বিল পরিশোধের সময় নির্ধারিত হারে কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। একইভাবে এলসির মাধ্যমে আমদানির ক্ষেত্রেও ব্যাংক সরাসরি কর কেটে এনবিআরে জমা করে। খাদ্য ও পানীয় শিল্প, ওষুধ কোম্পানি, সুপারশপ, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং বড় করপোরেট ক্রেতারা এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।

তবে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, উৎসে কর বাড়ানো হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারদরে। কারণ ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত করকে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয়ের অংশ হিসেবে গণ্য করেন।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, এনবিআরের কাছে জমা হওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া বাস্তবে কঠিন। ফলে ব্যবসায়ীরা এটিকে স্থায়ী ব্যয় হিসেবেই বিবেচনা করেন, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে পড়ে।

তার মতে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনও ১০ শতাংশের আশপাশে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যে নতুন করের চাপ বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত নীতিগত দিক থেকেও প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। কারণ বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান কয়েক বছর আগে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যকে উৎসে করের বাইরে রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি বলেছিলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় এসব পণ্যকে উৎসে কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত। এখন রাজস্ব ঘাটতির চাপে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত কয়েক বছরে নিত্যপণ্যের উৎসে করের হার একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরবরাহে এই কর ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়। পরে তা কমিয়ে ১ শতাংশে আনা হয়। সর্বশেষ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে করহার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশে নামানো হয়েছিল। এখন আবার সেই হার দ্বিগুণ করার চিন্তা করছে এনবিআর।

বাজেট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শুধু নিত্যপণ্যে নয়, আরও কয়েকটি খাতে কর ও ভ্যাট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রফতানি প্রণোদনার উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করা, উপজেলা পর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চালু, ব্যাংকে চলতি হিসাব খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক করা এবং পাস্তা, ফলের রস, আইসক্রিম, কোমল পানীয় ও প্রসাধনী পণ্যে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে।

এ ছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেল নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর আরোপ, অতি ধনীদের ওপর সম্পদ কর এবং ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের ওপর নতুন কর আরোপের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজস্ব বাড়ানো এবং একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। কিন্তু নিত্যপণ্যে উৎসে কর বাড়ানো হলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে। ফলে আসন্ন বাজেটে সরকার রাজস্ব আহরণকে অগ্রাধিকার দেবে, নাকি ভোক্তা স্বস্তিকে গুরুত্ব দেবে— সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
সানা/আপ্র/১৫/৫/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা পেয়েছি: তথ্যমন্ত্রী
১৩ মে ২০২৬

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা পেয়েছি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে বিগত (আওয়ামী লীগ) সরকারের...

একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প
১৩ মে ২০২৬

একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

দীর্ঘদিনের আলোচনা ও কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে Executive Committee of the National Economic Council...

ঈদ উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট
১৩ মে ২০২৬

ঈদ উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিপণিবিতান, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে...

১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো ১২৮ কোটি ডলার
১২ মে ২০২৬

১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো ১২৮ কোটি ডলার

দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিয়ে মে মাসের প্রথম ১০ দিনেই ১২৮ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

হামের টিকা অব্যবস্থাপনার বিচার ও মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি

হামের টিকা অব্যবস্থাপনার বিচার ও মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। আপনি কি এই দাবির সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে